


ফ্লোরিডা: ডায়েরির তিনটি ছেঁড়া পাতা। আবেগের বিস্ফোরণ প্রতিটি লাইনে। আর রয়েছে এক কঠিন সিদ্ধান্ত। যা আপামর ফুটবলপ্রেমীদের মেনে নেওয়া সত্যিই কঠিন। দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণময় আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ইতি টানলেন লায়োনেল মেসি। সোমবার ভারতীয় সময় রাত সাড়ে আটটায় ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে অবসরের কথা ঘোষণা করেন বাঁ পায়ের জাদুকর। তবে সিদ্ধান্তটা মোটেই আবেগের বশে নেননি তিনি। বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের দু’দিন পর মানসিকভাবে অবসরের পথে পা বাড়িয়ে রেখেছিলেন এলএমটেন। এরপর গত ৮ আগস্ট না ফেরার দেশে পাড়ি দেন তাঁর বাবা জর্জ মেসি। আর এই মৃত্যু তাঁকে ভেঙে চুরমার করে দেয়। সেই যন্ত্রণা থেকেই দেশের জার্সিতে বুট জোড়া তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন মেসি। তবে ক্লাব ফুটবলে খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি।
অবসরের কথা ঘোষণা করতে গিয়ে মেসি লেখেন, ‘বিশ্বকাপের ফাইনালের পর থেকে এই বিষয়ে আমি অনেক ভেবেছি। অবশেষে আমি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলাম। সিদ্ধান্তটা মোটেই সহজ ছিল না। তবে মনে হয়েছে, এটাই সঠিক সময়। দেশের জার্সিতে আমি সবসময় সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। গত কয়েক বছরে একের পর এক সাফল্য স্পর্শ করেছি। ওই নীল-সাদা জার্সির জন্য নিজেকে উজাড় করে দিতে কার্পণ্য করেনি। জাতীয় দলের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক ছিল আমার। ওই গ্রুপের সঙ্গে থাকলে আমি অনেক বেশি আনন্দ পেতাম। তবে আর আমার নতুন করে কিছু দেওয়ার নেই। বরং এটাই সময় তরুণ প্রজন্মকে তুলে ধরার। আর্জেন্তাইন হয়ে জন্মগ্রহণ করতে পারায় ঈশ্বরের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। গত ২১ জুলাই এই কথাগুলি আমি লিখেছিলাম। তারপরও খেলা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় ছিলাম। তবে বাবাকে হারানোর পর অবসরের সিদ্ধান্ত নিতেই হল।’
২০০৫ সালে আর্জেন্তিনার জার্সিতে অভিষেক ঘটে মেসির। প্রথম দেড় দশকে কোনো সাফল্যের মুখ দেখেননি তিনি। এই পর্বে টানা টানা তিনটি ফাইনালে হেরে ২০১৬ সালে হঠাৎই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে একের পর এক অনুরোধে কয়েক মাসের মধ্যেই ফের দেশের জার্সিতে ফিরতে হয় তাঁকে। অবশেষে ২০২১ কোপা আমেরিকায় প্রথম ট্রফি জয়ের স্বাদ পান লিও। আর ২০২২ বিশ্বকাপ জয় ঘুচিয়ে দেয় যাবতীয় লাঞ্ছনা। সর্বকালের সেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার দৌড়ে তাঁকে তুলে আনে অনেকটাই উপরে। এরপর ২০২৪ সালে ফের কোপা জয়ের স্বাদ পান তিনি। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে দলকে ফাইনালে তুললেও, খালি হাতেই ফিরতে হয় বাঁ পায়ের জাদুকরকে। সেদিন মেসির সঙ্গে আরও একবার কেঁদেছিল গোটা বিশ্ব। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশি বাজার পর স্পষ্ট হয়েছিল দেওয়াল লিখন।
এখন থেকে মেসি শুধুই প্রাক্তনী।