


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বড়বাজার বা শ্যামবাজারে যখন তুমুল বৃষ্টি, তখন আলিপুর বা যাদবপুর একেবারে শুকনো খটখটে। এমন ঘটনা বর্ষার চলতি মরশুমেও একাধিকবার প্রত্যক্ষ করেছে শহরবাসী। ক’দিন আগে বাসন্তীর একটি গ্রাম তছনছ হয়ে যায় আচমকা কয়েক মিনিটের স্থানীয় ঝড়ে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস দেওয়ার যে পদ্ধতি, আধুনিক প্রযুক্তির হাত ধরে তা অনেক উন্নত হয়েছে। স্যাটেলাইট ইমেজ সহ আরও নানা প্রযুক্তির কারণে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়গুলির নিয়ে এখন অনেকটাই নির্ভুল পূর্বাভাস দিতে পারে আবহাওয়া দপ্তর। কিন্তু বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি, স্থানীয় ঝড় ইত্যাদির ক্ষেত্রে পূর্বাভাস এখনও ততটা নির্ভুল হয় না। তাই এসব ক্ষেত্রে পূর্বাভাস আরও নিখুঁত করতে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় নিজস্ব কেন্দ্র খোলার পাশাপাশি রেডার বসানো সহ একগুচ্ছ উদ্যোগ নিচ্ছে আবহাওয়া দপ্তর। বিশেষজ্ঞদের মতে, যত বেশি তথ্য আসবে, তা বিশ্লেষণ করে তত বেশি নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হবে। তাই তথ্য সংগ্রহের পরিকাঠামো ঢেলে সাজার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
রাজ্যের অনেক জায়গাতেই আবহাওয়া দপ্তর বৃষ্টি, তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষই সেগুলি দেখভাল করে এবং দপ্তরকে তথ্য ও পরিসংখ্যান পাঠায়। এই ধরনের কেন্দ্র আরও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপে তাঁদের একটি নিজস্ব কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। পরবর্তীকালে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটেও কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।
পশ্চিমবঙ্গে এখন কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের ১৫টি কেন্দ্র রয়েছে। কলকাতায় নিজস্ব কেন্দ্র তিনটি—আলিপুর, দমদম ও সল্টলেক। ক্যানিং, শ্রীনিকেতন, বাঁকুড়া, হলদিয়া, দীঘা, দার্জিলিং, কল্যাণী সহ বিভিন্ন জায়গায় আবহাওয়া দপ্তরের নিজস্ব কেন্দ্র আছে। পানাগড়, বাগডোগরা, কলাইকুণ্ডা, বারাকপুর প্রভৃতি জায়গায় বায়ুসেনার যে আবহাওয়া কেন্দ্রগুলি আছে, সেখান থেকেও তথ্য পায় দপ্তর। তাছাড়া, রাজ্য সরকারের কৃষি, বিপর্যয় মোকাবিলা ও সেচদপ্তরের সূত্রেও আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য আসে। সম্প্রতি নদীয়ার কৃষ্ণনগরে একটি কলেজে আবহাওয়া দপ্তর তথ্য সংগ্রহের জন্য যন্ত্রপাতি বসিয়েছে। ডায়মণ্ডহারবারে মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন রেডার বসানোর পাশপাশি আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা হচ্ছে। এই কাজে আরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসুক—চাইছে দপ্তর। এক আধিকারিক বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রে একটা সমস্যা হল, খুব ভোরে আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহ করে পাঠাতে হয়। সেই সময় কর্মীরা সাধারণত থাকেন না। এই সমস্যা দূর করার চেষ্টা চলছে।’ বৃহত্তর কলকাতায় আরও কয়েকটি জায়গায় বৃষ্টি ও তাপমাত্রা পরিমাপের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অধিকর্তা। এখন কলকাতায় মাত্র একটি রেডার চালু আছে। সেটি দূরপাল্লার হলেও উত্তরবঙ্গের মেঘ বিশ্লেষণ করতে পারে না। তাই উত্তরবঙ্গে মেঘের চরিত্র বোঝার জন্য স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবিই ভরসা। ডায়মণ্ডহারবার ও মালদহে দু’টি নতুন রেডার বসানো হয়ে গেলে মেঘের অবস্থা বিশ্লেষণ আরও ভালোভাবে করা যাবে এবং সেই মতো পূর্বাভাস দেওয়া যাবে বলে আশা আবহাওয়াবিদদের।