


নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ঝাড়ফুঁক তুকতাকের নামে বাড়িতে এসে গোঘাটে নাবালিকাকে অপহরণ করা হয়েছিল। প্রায় একমাস পর উত্তরাখণ্ড থেকে ফিল্মি কায়দায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল গোঘাট থানার পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে নাবালিকাকেও। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত নাবালিকাকে নিয়ে বারবার স্থান বদল করে। এমনকী, একাধিক সিম কার্ড ব্যবহার করেও পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু, শেষরক্ষা হয়নি। শনিবার উত্তরাখণ্ডের রুড়কি থানা এলাকা থেকে আলি আসগর খানকে গ্রেফতার করে। তার বাড়ি বাঁকুড়ার ওন্দা থানা এলাকায়। সেখানকার আদালতে ট্রানজিট রিমান্ড নিয়ে সোমবার তাকে এখানে নিয়ে আসা হয়। এদিনই ধৃত ও নাবালিকাকে আরামবাগ আদালতে তোলা হয়। বিচারক নাবালিকাকে হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ধৃতের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরামবাগের এসডিপিও সুপ্রভাত চক্রবর্তী বলেন, নাবালিকাকে অপহরণের অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাবালিকা উদ্ধারের প্রক্রিয়ায় গোঘাট থানার পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল অপারেশন গ্রুপের সদস্যরাও তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। ঘটনার তদন্ত চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোঘাট থানা এলাকার বাসিন্দা বছর ষোলোর ওই নাবালিকা মাঝরাতে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। গত ১ অক্টোবর নাবালিকার পরিবারের তরফে গোঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। তারপরই ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ।
হুগলি গ্রামীণ পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, বছর ৪৫-এর অভিযুক্ত ঝাড়ফুঁকের কাজ করত। সেই সূত্রেই নাবালিকার বাড়িতে যাতায়াত ছিল। সে ফুসলিয়ে নাবালিকাকে বাড়ি থেকে গাড়িতে চাপিয়ে বাঁকুড়া স্টেশনে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ট্রেন ধরে বিভিন্ন জায়গায় যায়। পুলিশ তদন্তে জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত একের পর এক সিমকার্ড বদল করতে থাকায় ট্র্যাক করতে বেশ বেগ পেতে হয়। তার অবস্থান নিশ্চিত করে গোঘাট থানার এএসআই আসাদুল মোল্লার নেতৃত্বে ছ’জনের পুলিশের টিম উত্তরাখণ্ডে যায়। সেখানকার পুলিশের সাহায্য নিয়ে তাকে গ্রেফতার করে নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ওই নাবালিকাকে নিয়ে একটি ভাড়া ঘরে থাকছিল। ধৃতের বাড়িতে তার স্ত্রী সহ পরিবার রয়েছে। এই ঘটনায় নাবালিকার পরিবার ধৃতের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।সোমবার আদালত চত্বরে নাবালিকার মা বলেন, শাশুড়ির শারীরিক অসুস্থতার জন্য ওই ব্যক্তি বাড়িতে এসেছিল। কিন্তু, সে যে মেয়েকে এভাবে অপহরণ করবে ভাবিনি। পুলিশ মেয়েকে উদ্ধারে সাহায্য করেছে। মেয়ের সঙ্গে বেশি কথা বলতে পারিনি। অভিযুক্তের কঠোর সাজা চাই।