


সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: পাড়ায় আসবেন মিঠুন চক্রবর্তী। ‘মহাগুরু’কে সামনে থেকে দেখার সুযোগ কেই বা হাতছাড়া করতে চায়! তাই বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উলুবেড়িয়া উত্তরের পাত্রপোল এবং উলুবেড়িয়া পূর্বের পানপুর মোড়ে ভিড় জমিয়েছিল তাঁর এক সময়ের অনুরাগীরা। সেইমতো দু’টি জায়গাতেই পরিবর্তন যাত্রার মঞ্চ তৈরি করেছিল বিজেপি। তবে পাত্রপোলে নির্দিষ্ট সময়ের অনেক পরে মিঠুন আসায় এবং পানপুর মোড়ে গাড়ি থেকে না নেমেই চলে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।
গত সোমবার আমতা বিধানসভার জয়পুরে অমরাগড়ি ফুটবল মাঠ থেকে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার সূচনা করেছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। ওইদিন ঝিকিরা বাজার পর্যন্ত পরিবর্তন যাত্রা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে উলুবেড়িয়া উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের পাত্রপোল থেকে যাত্রা শুরু হয়ে তা উলুবেড়িয়া পূর্ব, বাগনান, শ্যামপুর ও উলুবেড়িয়া দক্ষিণ বিধানসভা এলাকা পরিক্রমা করে। এদিন সকালে পাত্রপোল থেকে পরিবর্তন যাত্রা শুরু করার কথা ছিল মিঠুন চক্রবর্তীর। এরপর পানপুর মোড়ে তাঁর সভা করার কথা ছিল। তাই সকাল ৯টা থেকে পাত্রপোলে ভিড় জমতে শুরু করে। রোদ উপেক্ষা করেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন মানুষজন, বিশেষ করে মহিলারা। তাঁদের একটাই দাবি, একটিবার মিঠুনকে কাছ থেকে দেখব। শেষমেশ তারকা শিল্পী আসেন বেলা ১২টা নাগাদ। ততক্ষণে ক্ষোভ দেখিয়ে মাঠ ছেড়েছেন অনেকে। যাঁরা শেষ অবধি ছিলেন, তাঁরা অবশ্য দর্শন পেয়েছেন মিঠুনের।
অন্যদিকে, পাত্রপোলের মতো পানপুর মোড়েও মিঠুনকে দেখার জন্য রোদ উপেক্ষা করে দাঁড়িয়েছিলেন অনেকে। পরিবর্তন যাত্রায় মিঠুনকে আসতে দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন হয়তো সভামঞ্চে উঠবেন, তাহলে সামনে থেকে দেখা যাবে। কিন্তু মঞ্চে ওঠা তো দূরের কথা, গাড়ি থেকে নামারও প্রয়োজন মনে করেননি তিনি। ফলে মহিলারা প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেকেই বলেন, সব কাজ ফেলে ‘মহাগুরু’কে দেখতে এসেছিলাম। আগে যদি বলা হতো মিঠুনকে দেখা যাবে না, তাহলে বিজেপির সভায় আসতামই না। দু’টি জায়গাতেই অব্যবস্থার জন্য বিজেপি কর্মীদের দিকে আঙুল তুলেছেন গ্রামবাসীরা।
ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা পিন্টু পাড়ুই বলেন, মিঠুন চক্রবর্তীকে নিয়ে সকলের মধ্যেই একটা আবেগ রয়েছে। ক্ষোভ যেটুকু হয়েছে, তা আসলে আবেগেরই বহিঃপ্রকাশ। তবে পরে মিঠুনকে সামনে থেকে দেখার পর সব ঠিক হয়ে গিয়েছে।