


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চাষিদের কাছ থেকে ধানক্রয়ে গতি আনতে খাদ্যদপ্তর আগামী মার্চেও মোবাইল ক্রয়কেন্দ্র চালাবে। যদিও নির্দেশ ছিল, এগুলি চলবে ফেব্রুয়ারি পর্যন্তই। নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এমএসপিতে বেশি পরিমাণে কিনতেই এই সিদ্ধান্ত। ছোটো ও প্রান্তিক চাষিদের একটা বড়ো অংশ দূরবর্তী কেন্দ্রীয় ক্রয়কেন্দ্রে (সিপিসি) ধান নিয়ে যেতে সমস্যায় পড়েন। তখন অনেকে ফড়েদের কাছে ধান বেচতে বাধ্য হন। তাই গ্রামাঞ্চলে ভ্রাম্যমাণ স্থায়ী কেন্দ্রগুলি চাষির বাড়ির কাছে পৌঁছাবে। সেই ধান সোজা চলে যাবে রাইস মিলে। এতে তাদের মূল সমস্যা অনেকটাই দূর হবে। সাধারণ সিপিসি এবং মোবাইল সিপিসি দুই জায়গাতেই চাষিরা প্রতি কুইন্টাল ধানে এমএসপির অতিরিক্ত ২০ টাকা বোনাস পান। খাদ্যদপ্তর এখন রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন জেলায় মোট ১৭৫টি ভ্রাম্যমাণ সিপিসি চালাচ্ছে।
নভেম্বরে নতুন ধান ওঠার পর মোটামুটি ডিসেম্বর থেকে ধান বিক্রির প্রবণতা বাড়ে। এটা ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস অবধি চলে। ছোটো চাষিরা ধান বেচে আলু ও অন্যান্য ফসল ফলান। অন্যকিছু প্রয়োজনও মেটে তাঁদের। চাষিদের হাতে আরো বেশি টাকা পৌঁছে দেওয়াই রাজ্যের উদ্দেশ্য। রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন জেলায় এখন ৬১৬টি স্থায়ী ক্রয়কেন্দ্র চলছে। সেখানে প্রতি কাজের দিন ধান কেনা হয়। চাষিরা অনলাইনে আগাম নাম লিখিয়েও বেচতে পারেন। এই একই ব্যবস্থা মোবাইল কেন্দ্রের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এর বাইরে প্রায় ২,৩০০ অস্থায়ী ধান ক্রয়কেন্দ্র চলছে গ্রামাঞ্চলে। সমবায় সমিতি, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, ফার্মার কোম্পানিসহ বিভিন্ন সংস্থা এগুলি চালাচ্ছে। ধান কিনে তারা দিচ্ছে সরকারি সংস্থাগুলিকে। চাষির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছে তিনদিনের মধ্যে। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে সব মিলিয়ে ৩৭ লক্ষ টন ধান কিনে ফেলেছে। প্রায় ২১ লক্ষ চাষি সরকারের কাছে ধান বেচেছেন। এদিকে ধান থেকে চাল উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য খাদ্যদপ্তর বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে। খরিফ মরশুমের প্রথম দিকে ফর্টিফায়েড রাইস কারনেল (এফআরকে) সরবরাহের একটা সমস্যা ছিল। তাতে ব্যাহত হচ্ছিল চাল উৎপাদন। এর পিছনে ছিল কেন্দ্রের কিছু বিধিনিষিধ। এখন এই সমস্যা মিটেছে বলে খাদ্যদপ্তর সূত্রের দাবি।