


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সংখ্যালঘু বিরোধী সরকার! এমনই অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রের মোদি সরকারের বিরুদ্ধে। এবার সেই তকমা ঘোচাতে মরিয়া কেন্দ্র। গত ২৬ মে প্রধানমন্ত্রিত্বের ১২ বছর পূর্ণ করেছেন নরেন্দ্র মোদি। সেই উপলক্ষ্যে আগামী ১০ জুন এনডিএ’র তরফে একটি নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। তার আগে সংখ্যালঘুদের মন পেতে প্রচারে নামল সরকার। দুর্নীতির অভিযোগে সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দেওয়া বন্ধ হলেও হজ যাত্রার সুবিধা থেকে ওয়াকফ সম্পত্তির রেজিস্ট্রেশন, সংখ্যালঘুদের ঋণের ব্যবস্থার মতো সরকারি নানা প্রকল্প তুলে ধরে ‘রিফর্মস উৎসব’ নামে এক সেলিব্রেশনের সূচনা করলেন কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। তিনি বলেন, ‘মোদি সরকার ধর্ম, জাতপাতের রাজনীতি করে না।’
বৃহস্পতিবার ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন, নরেন্দ্র মোদি সরকার মোটেই সংখ্যালঘু বিরোধী নয়। তিনি বলেন, ‘এসবই বিরোধীদের অপপ্রচার। আমরা সবার উন্নতি চাই। হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ করি না। তাই ভারতে সংখ্যালঘুরা নিরাপদে নেই, বিরোধীদের এ জাতীয় প্রচার বিশ্বাস করবেন না। সরকারি তথ্য যাচাই করলেই দেখবেন, ভারতে সবাই নিরাপদ।’ সংখ্যালঘুদের উন্নয়নে সরকারের সাফল্যের প্রচারের লক্ষ্যে এদিনের অনুষ্ঠানে মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ এবং পারসিক—ছয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের হাজির করানো হয়েছিল। মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ ক্যুরিয়ন, সংখ্যালঘু মন্ত্রকের সচিব শ্রীবৎস কৃষ্ণ, যুগ্ম সচিব শ্যামাপ্রসাদ রায়। রিজিজু জানান, সংসদে ওয়াকফ সংক্রান্ত আইন সংশোধনের পর ‘উমিদ’ নামে নতুন পোর্টাল আনা হয়। তার ফলে ওয়াকফ সম্পত্তির রেজিস্ট্রেশন দ্রুত গতিতে চলছে। এখনো পর্যন্ত দেশে ৪ লক্ষ ৯৬ হাজার ৮২২টি ওয়াকফ সম্পত্তি উমিদ পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে। এর পরেই সাংবাদিকরা জানতে চান, মোদি সরকারে একজনও মুসলিম সাংসদ বা মন্ত্রী নেই কেন? অস্বস্তি কাটাতে রিজিজু বলেন, সংখ্যালঘু তো রয়েছে। আমি বৌদ্ধ। রাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যুরিয়ন খ্রিস্টান। ফলে মোদি সরকার মোটেই সংখ্যালঘু বিরোধী নয়। বরং তাদের জন্য বাড়তি প্রকল্প রয়েছে।