


নয়াদিল্লি, ১ অক্টোবর: মাঝ আকাশেই বিপদ। পাশাপাশি সহ-পাইলটদের হামলার পরও হাল ছাড়েননি ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। গুরুতর আহত অবস্থাতেও লড়াই করে ককপিটের দরজা খুলে দেন তিনি। তাঁর এই সাহসিকতায় রক্ষা পেলেন বিমানে থাকা ১৭০-রও বেশি যাত্রী। ক্যাপ্টেন মচ্ছরের এই সাহসিকতার প্রশংসা করে তাঁকে ‘হিরো’ বলে উল্লেখ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী জানান, গুরুতর বিপদের মুখেও অসীম সাহস ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন ক্যাপ্টেন মচ্ছর। তাঁর এই বীরত্বে শতাধিক মানুষের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। পাশাপাশি একটি বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তাঁর জন্য ভারত গর্বিত বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। পাশাপাশি তাঁর দ্রুত সুস্থতা ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন তিনি।
সূত্রের মারফত জানা গিয়েছে, ক্যাপ্টেন মচ্ছরের স্ত্রী ও বাবা-মায়ের সঙ্গেও কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস এবং ভারতীয় দূতাবাসগুলি তাঁদের সবরকম সাহায্য করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ভারতীয় নাগরিক ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর গত চার বছর ধরে ফ্লাইদুবাইয়ে কর্মরত। এর আগে তিনি প্রায় ১০ বছর স্পাইসজেটে কাজ করেছেন। বোয়িং ৭৩৭ বিমান চালানোর ক্ষেত্রে তাঁর ১৩ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৯,৭৫০ ঘণ্টা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।
উল্লেখ্য, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটনাটি ঘটে গতকাল বুধবার সকালে। ১৭০-রও বেশি যাত্রী নিয়ে উড়ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বোয়িং ৭৩৭ বিমান। অভিযোগ, মাঝ আকাশে সহ-পাইলট বিমানটিকে বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময় তাঁকে আটকাতে গেলে ক্যাপ্টেন মচ্ছরের উপর হামলা হয় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা বিমানটি আচমকাই দ্রুত নীচের দিকে নামতে শুরু করে। এরপর পরিস্থিতি সামাল দিতে সহ-পাইলটের সঙ্গে লড়াই করেন মচ্ছর। পরে ককপিটের দরজা খুলে দিলে যাত্রী ও কেবিন ক্রুরাও এগিয়ে এসে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পাশাপাশি বিমানের পিছনের দিকে থাকা আরও দুই রিলিফ পাইলট এরপর দায়িত্ব নেন। বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুকে ডাইভার্ট করা হয় এবং নিরাপদে অবতরণ করানো সম্ভব হয়। বিমানে থাকা এক দাঁতের চিকিৎসক আহত পাইলটকে প্রাথমিক চিকিৎসা করেন বলে জানা গিয়েছে। ক্যাপ্টেন মচ্ছরের এই সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও। তিনি তাঁর অসাধারণ সাহস এবং বিপদের মুহূর্তে উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করে দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। অন্যদিকে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও মচ্ছরকে সত্যিকারের হিরো বলে প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, গুরুতর আহত হয়েও ক্যাপ্টেন স্মিথ প্রতিরোধ গড়ে তুলে ককপিটের দরজা খুলে দেন, যার ফলে যাত্রী ও ক্রুরা হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ভারতীয়ওই পাইলটের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। তাঁর কথায়, গুরুতর আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন মচ্ছর অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।