


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিগত ১০ বছরে ‘উৎকর্ষ বাংলা’ প্রকল্পের আওতায় দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ পেয়েছেন প্রায় ৪৫ লক্ষ যুবক-যুবতী। পাশাপাশি এই কর্মসূচির অধীনে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী ৬০ শতাংশ যুবক যুবতীর কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত হয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। মঙ্গলবার কারিগরি শিক্ষা দপ্তরের এই প্রকল্পের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে কৃতী সম্মান প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট কাউন্সিল অব টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড স্কিল ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান পূর্ণেন্দু বসু, দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব অনুপ কুমার আগরওয়াল প্রমুখ।
কৃষি, মৎস্যচাষ, পর্যটন দপ্তর জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে যুবক-যুবতীদের কাজের সুযোগ তৈরি করে দিতে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ চালু করেছিল। বর্তমানে কর্মসংস্থানের জন্য যে ধরনের দক্ষতা উন্নয়ন প্রয়োজন, সেই ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রের শিল্প সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হয় প্রশিক্ষণের পাঠ্যক্রম। ওয়েস্ট বেঙ্গল অ্যাপ্রেন্টিসশিপ স্কিমের মাধ্যমে একেবারে হাতেকলমে কাজ শেখার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে যেখানে গিয়ে তাঁরা প্রশিক্ষণ নেন, সেই পর্ব চলাকালীন সেখান থেকেই কিছু উপার্জনও করতে পারেন। সেই সঙ্গে রাজ্যে ‘ইন্ডাস্ট্রি রেডি’ মানবসম্পদ সৃষ্টি হয়। ফলে সহজেই কাজ
পেয়ে যান প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা। গত চার-পাঁচ বছরে অ্যাপ্রেন্টিসশিপ স্কিমের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে রাজ্য। সেই সঙ্গে প্রতি বছর রাজ্যজুড়ে প্রায় ১০০টি জব ফেয়ার আয়োজন করা হয়। প্রতিটি জেলায় চারটি করে। যেখান থেকে ৩০ থেকে ৪০
হাজার যুবক-যুবতী কর্মসংস্থানের সুযোগ পান। এছাড়াও রোজগার
সেবা পোর্টালের মাধ্যমে চাকরি পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে রাজ্য।
রাজ্য এই সাফল্য পেলেও ১ লক্ষ ২৭ হাজার কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে নেওয়া কেন্দ্রের প্রধানমন্ত্রী ইন্টার্নশিপ স্কিমের ব্যর্থতা সম্প্রতি সামনে এসেছে। এ বিষয়ে পূর্ণেন্দু বসু বলেন, ‘আসলে কেন্দ্র যেটা করতে চায়, সেটা না করে তার বিজ্ঞাপনের জন্য বেশি খরচ করে ফেলে। পশ্চিমবঙ্গে তা হয় না। মানুষই আমাদের কাজের ভালো-মন্দ সবটা বিচার করে। তাই আলাদা করে আমাদের ঢাক ঢোল পেটানোর প্রয়োজন পড়ে না।’