


সন্তানের কাছে মাতৃঋণ আজীবনের। নিজের মাকে নিয়ে কতই না গল্প জড়িয়ে আছে জীবনের নানা বাঁকে। কিন্তু মায়েদের কথা আলাদা করে বলা হয় কই? বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা লিখছেন তাঁদের মায়ের কথা। এই পর্বে সৌরসেনী মৈত্র।
• মা শর্মিষ্ঠা মৈত্র পাশে না থাকলে, আজ সৌরসেনী মৈত্র তৈরিই হত না। খুব ছোটো বয়সে মডেলিং দিয়ে আমার কেরিয়ার শুরু। বর্তমানের ‘চতুষ্পর্ণী’-তেই আমি প্রচুর মডেলিং করেছি। তখন স্কুল থেকে ফিরে মডেলিং করতাম। স্কুল থেকে আমাকে নিয়ে সোজা ফোটোশ্যুটে পৌঁছে যেতেন মা। কাজের পাশাপাশি আমার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও কৃতিত্ব সম্পূর্ণ মায়ের। কাজের ক্ষেত্রেও সবসময় উৎসাহ দিয়েছেন। মায়ের এই সাপোর্ট না থাকলে আমার চলার পথ এতটা সহজ হত না। এখনও আমার পেশাগত সিদ্ধান্ত বাদে সবকিছুর জন্যই আমি মায়ের উপর নির্ভরশীল। বিয়েবাড়িতে বা পার্টিতে কী লুক করব বা কী গিফট দেব সবটা মাকে একবার জিজ্ঞাসা করি। মায়ের মতামত না নিলে যেন সবটা অপূর্ণ থেকে যায়।
এত কিছুর মাঝেও মায়ের সঙ্গে ঝগড়া মাস্ট। আমাদের তুমুল ঝগড়া হয়। কিন্তু, দু’মিনিটেই আবার সেই ঝগড়া সব মিটমাট হয়ে যায়। কারণ মাকে ছাড়া আমি পুরোপুরি অচল। মায়েরা হয়তো এরকমই হন। শ্যুটিংয়ের জন্য কখনো ভোর পাঁচটায় বেরতে হয় আবার কখনো রাত তিনটেয় বাড়ি ফিরতে হয়। মা কিন্তু জেগে থাকেন। আমি যত ভোরেই বেরই না কেন, দিনের প্রথম কফি মা আমাকে করে দেন। এই সাপোর্ট মা ছাড়া অন্য কারও থেকে পাওয়া অসম্ভব।
মায়েদের আর একটা ভীষণ বড়ো গুণ তাঁরা সন্তানের মন পড়তে পারেন। আমার মা-ও ব্যতিক্রম নন। অনেকবার মাকে লুকিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে পার্টি করেছি। কিন্তু, মা ঠিক বুঝতে পেরে গিয়েছেন। ধরা পড়ে গিয়েছি। ধরা পড়ার পর তো আমি একেবারে ভিজে বিড়াল হয়ে যেতাম। যা বলতেন চুপচাপ শুনে নিতাম। কিন্তু, এখন আর মায়ের কাছে কোনো কিছুই আড়াল করি না। আসলে এখন মায়ের কাছে কিছু লুকিয়ে রাখার জন্য যে এনার্জি দরকার, আমার সেটুকু এনার্জিও নেই। মায়ের কাছে একেবারে খোলা খাতার মতোই হওয়া উচিত।
পেশার কারণে অনেক সময় আমাদের জীবন নিয়ে গসিপ তৈরি হয়। সেগুলো দেখে আমরা এখন হাসাহাসি করি। কারণ আমার মা জানেন কোনটা সত্যি এবং কোনটা মিথ্যে। মা বলেন, এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা আসবেই। পিছনে অনেকেই কথা বলবে, কিন্তু তাই বলে দৌড় থামানো যাবে না। যদি কোনো ভুল থাকে আমরা মা-বাবা হিসেবে তার লাগাম অবশ্যই দেব। কিন্তু তুমি তোমার স্বপ্নের দৌড় থামিও না।
আমার মা কীভাবে যে সবকিছু একা হাতে সামলে দিতে পারেন, তা সত্যিই অবাক হয়ে দেখার মতো। মাল্টিটাস্কিং, সবকিছু ব্যালেন্স করা, এসব মায়ের থেকে শিখতে চাই। মাকে দেখে বুঝেছি, জীবনে সবকিছুর ভারসাম্য রক্ষা করে এগিয়ে যাওয়াটাও একটা বড়ো চ্যালেঞ্জ।