


শিল্পী জীবনের ৬০ বছর। বার্ধক্যে পৌঁছলেন?
হা হা হা...। হ্যাঁ, অনেক বুড়ো হয়ে গেলাম।
‘হংসরাজ’-এর ৫০ বছর! ভাবলে নস্টালজিক লাগে?
কয়েকদিন আগে আকাশবাণীতে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়েও মনে হচ্ছিল, ওই সামনের গেট, রাস্তা— ওখানে শ্যুটিং হয়েছিল। কেয়াতলায় বিবেকানন্দ পার্কের পাশের একটা বাড়িতে শ্যুটিং হয়েছিল। সেই বাড়িটা আজও আছে। ওখান দিয়ে গেলে চোখ চলে যায়। স্টার থিয়েটারে গেলেও নস্টালজিক লাগে। ওখানে দু’রাত ধরে ‘শহরটারে গোলকধাঁধায়’ গানের শ্যুটিং হয়েছিল।
এই ছবিতে তো প্রথমে আপনার গান গাওয়ার কথা ছিল?
হ্যাঁ, গান গাওয়া হয়নি আমার। সেজন্য মনখারাপও হয়েছিল। তারপর এল অভিনয়ের সুযোগ। তখন আমার মা অনুভা গঙ্গোপাধ্যায় বলেছিলেন, তুই অভিনয়টা চ্যালেঞ্জ হিসাবে নে।
ছবির সাফল্যে মনখারাপ কমেছিল?
আমার এখনো মনে আছে, সেদিন রেডিওতে পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় খবর পড়ছেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ শিশু অভিনেতা হিসাবে আমার নাম ঘোষণা হল। শোনার পর লাফিয়ে উঠে মাকে গিয়ে জড়িয়ে ধরেছিলাম। আর একটা ঘটনা বলি?
নিশ্চয়ই..
উজ্জ্বলায় তখন ‘হংসরাজ’ চলছে। রাধামোহন ভট্টাচার্যকে দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলাম। ইভিনিং শো শেষ হওয়ার পর, উজ্জ্বলার সামনে জনসমুদ্র। রাধামোহন মামা দেখছেন আর হাসছেন। এগুলো বড় মনে পড়ে...। এই ৬০ বছরের অভিনয় জীবনে দর্শক ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছেন।
‘হংসরাজ’-এর সাফল্যের আলোয় আপনার অন্যান্য অনেক কাজ চাপা পড়ে গিয়েছে, খারাপ লাগে?
একেবারেই খারাপ লাগত না বললে মিথ্যে বলা হবে। ‘হংসরাজ’-এর আগে নচিকেতা ঘোষের সুরে ‘ঠাকুরমার ঝুলি’র ‘লালকমল নীলকমল গেয়েছিলাম। এটা অনেকে জানেনই না। আবার শর্মিলা ঠাকুর, অমল পালেকরের সঙ্গে ‘মাদার’ করেছিলাম ঠিক ‘হংসরাজ’-এর পর। সেটাও অনেকে জানেন না।
আপনি ‘সিলভার জুবিলি’, ‘গোল্ডেন জুবিলি’র সময়টা দেখেছেন। আর এখন বাংলা ছবি রিলিজ করতে না করতেই হল থেকে উঠে যাচ্ছে। এ অবস্থার পরিবর্তন হবে কীভাবে?
যা কিছু ঘটছে তার জন্য আমরাই অনেকটা দায়ি। আমাদের মূল্যবোধের ভয়ংকর অবক্ষয় ঘটেছে। এখন মানুষকে অপমান করাটা বড় সহজ। আমাদের মানসিকতার বদল প্রয়োজন।
একসময় আর্টিস্ট ফোরামের দায়িত্বে ছিলেন। আপনি নিজের মতো চেষ্টা করেন এখনও?
এই মুহূর্তে করি না। সাত বছর আর্টিস্ট ফোরামে ছিলাম। এই কমিউনিটিতে আমরা কিছু লোক কাজ করি। বেশিরভাগই কাজের জন্য হাহাকার করেন। আর্টিস্ট ফোরামের কাজ দেওয়ার ক্ষমতা নেই। কিন্তু তাঁদের যাতে সুরাহা হয়, আমি সেই জায়গাতে সবথেকে বেশি জোর দিতাম। সেটা করতে গিয়ে দেখলাম, আমি একা! কাউকেই অনুপ্রাণিত করতে পারিনি, হয়তো এটা আমার ব্যর্থতা।
আপনার অভিনীত ‘বামাক্ষ্যাপা’ টেলিভিশনে ১০ বছর চলেছিল। এখন দু’মাসেও ধারাবাহিক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই বদলটা কীভাবে দেখেন?
যেদিন থেকে পরিচালকের সম্মান যেতে শুরু করল, সেদিন থেকেই এই অধঃপতন শুরু। খুব দুঃখের সঙ্গে বলছি, কর্পোরেট আসার পর সবকিছু চ্যানেল বলে দেয়। এটাই অধঃপতনের জায়গা। পরিচালক এখন ফ্লোর ম্যানেজারে পরিণত হয়েছেন।
আপনি তো টেলিভিশনে দীর্ঘদিন পরিচালনা করেছেন...।
হ্যাঁ, যেদিন থেকে এই অবস্থা শুরু হল, আমিও সরতে শুরু করলাম।
আর ধারাবাহিকে অভিনয়?
এখন শিল্পীদের পারিশ্রমিক কমানোর ট্রেন্ড এসেছে। এটা তো আমার উপার্জনের মাধ্যম। কিন্তু আত্মসম্মান বিকিয়ে দিয়ে নয়।
স্বরলিপি ভট্টাচার্য