


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শেষপর্যন্ত দীর্ঘকালীন গড়ের তুলনায় ১২ শতাংশের মতো কম বৃষ্টি দিয়ে চলতি বছরে দেশে বর্ষার মরশুম আজ বুধবার শেষ হতে চলেছে। বর্ষার বৃষ্টির হিসাব জুন-সেপ্টেম্বর চারমাসের ধরাই সরকারি নিয়ম। এই মাত্রার স্বল্পতা (১২.৭) শেষবার হয়েছিল ২০১৫ সালে। এবারের মতো তখনো এল নিনোর প্রভাব পড়েছিল বর্ষার উপর। এবার বর্ষার বৃষ্টি কতটা হল তা আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে দিল্লির মৌসম ভবন। তবে আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, ১২ শতাংশ স্বল্পতার বিশেষ হেরফের হবে না। দীর্ঘকালীন গড়ের তুলনায় বৃষ্টি ১৯ শতাংশ পর্যন্ত কম হলে আবহাওয়ার বিচারে তাকে ‘স্বাভাবিক’ বলে ধরা হয়। ২০ শতাংশ কম হলে তাকে বলে হয় ‘ঘাটতি’। এই নিরিখে এল নিনোর ভ্রূকুটি থাকলেও দেশে সার্বিকভাবে স্বাভাবিক বৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের অনেক জায়গায় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে গড়ের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি এবং উত্তরবঙ্গ-সিকিমে ১০ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে।
কিন্তু দেশের একটা বড়ো অংশে দীর্ঘকালীন গড়ের তুলনায় বৃষ্টির স্বল্পতা ২০ শতাংশের মাত্রা ছাড়িয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে গোটা উত্তর-পূর্ব ভারত, বিহার, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, পশ্চিম রাজস্থান, গুজরাতের সৌরাষ্ট্র ও কচ্ছ এলাকা, মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ-মারাঠাওয়াড়া এলাকা ও দক্ষিণ ভারতের বেশিরভাগ এলাকা। সাম্প্রতিক নিম্নচাপটির জন্য শুধু দক্ষিণের তেলেঙ্গানা ও উপকূলীয় অন্ধ্র-ইয়ানাম এলাকা শেষ সময়ে বিপুল বৃষ্টির স্বল্পতা থেকে বেরিয়ে এসেছে।
ইতিমধ্যে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু ও কর্ণাটক রাজ্যের বেশকিছু অংশে সরকারিভাবে ‘খরা’ ঘোষণা করা হয়েছে বা হতে চলেছে। গড়ের তুলনায় বৃষ্টিপাত ২০ শতাংশ বা তার বেশি হলে ‘অতিবৃষ্টি’ হিসাবে ধরা হয়। একমাত্র ওড়িশায় তা হয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারত, কেরল, উত্তরবঙ্গ প্রভৃতি জায়গায় গড় বৃষ্টিপাত খুব বেশি। তাই কিছুটা কম বৃষ্টি হলে কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু পশ্চিম রাজস্থান, সৌরাষ্ট্র-কচ্ছ, বিদর্ভ-মারাঠাওয়াড়া প্রভৃতি জায়গায় যেখানে গড় বৃষ্টিপাত এমনিতেই কম, সেখানে আরও কম বৃষ্টি হলে বড়ো সমস্যা তৈরি হয়। পূর্ব, উত্তর-পূর্ব ভারতে ২৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ ভারতে ২৪ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। কম বৃষ্টি হয়েছে মধ্য ভারতে ২ শতাংশ এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতে ৬ শতাংশ। এল নিনোর প্রভাবসহ আরও কয়েকটি কারণে এবার যে দেশে কম বৃষ্টি হবে আবহাওয়া দপ্তর সেই পূর্বাভাসে দিয়েছিল বর্ষার আগেই। সার্বিকভাবে গড়ের ৯৪ শতাংশের আশপাশে বৃষ্টি হবে জানানো হয়েছিল। বাস্তবে তা ৯০ শতাংশের নীচে নেমেছে। এবার আরব সাগরে কোনো নিম্নচাপ তৈরি হয়নি। বঙ্গোপসাগরে পরপর নিম্নচাপ হলেও সেগুলির গতিপ্রকৃতিতে কিছুটা পরিবর্তন দেখেছেন আবহাওয়াবিদরা।