


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তিন এপ্রিল, ২০২৫। মা উড়ালপুলের উপর পার্কসার্কাস থেকে চিংড়িঘাটা যাওয়ার সময় একটি পাঁচতারা হোটেলের কাছে গাড়ি দুর্ঘটনা। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইলে রিল তৈরি করছিলেন চালক। অসতর্ক হয়ে ডিভাইডারে গাড়ি উঠিয়ে দেন। চালক নিজে বেঁচে যান। কিন্তু কংক্রিটের কাঠামো সমেত ল্যাম্পপোস্টটি ভেঙে উল্টোদিকে ছিটকে পড়ে। এমন ঘটনা একটি নয়। ২০২৪ সালে এই উড়ালপুলের চিংড়িঘাটা থেকে পার্কসার্কসগামী রাস্তায় এই ধরনের দু’টি দুর্ঘটনা ঘটে। সে ঘটনাতেও গাড়ির ধাক্কায় ভেঙেছিল বাতিস্তম্ভ।
মা ফ্লাইওভারে কতগুলি বাতিস্তম্ভ আছে? তার মধ্যে কতগুলি ভেঙে গিয়েছে? এ সংক্রান্ত কোনও হিসেব উড়ালপুলের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভলপমেন্ট অথরিটির (কেএমডিএ) কাছে নেই। জানা গিয়েছে, এ সংক্রান্ত কোনও তথ্য কোনওদিনই ছিল না। তবে পরপর দুর্ঘটনা ও একের পর এক ল্যাম্পপোস্ট ভাঙার ঘটনায় এবার নড়েচড়ে বসেছে কেএমডিএ। মা’য়ের সবকটি বাতিস্তম্ভে নম্বর দেওয়া (নাম্বারিং) হবে। এক একটি ল্যাম্পপোস্টের গায়ে বড় হরফ ও সংখ্যা লেখা থাকবে। এর ফলে ফ্লাইওভারে কতগুলি ল্যাম্পপোস্ট আছে এবং কোন বাতিস্তম্ভ উড়ালপুলের কোন জায়গায় আছে সে সংক্রান্ত তথ্য থাকবে। ফলে দুর্ঘটনায় বাতিস্তম্ভ ভাঙলে তা সহজেই চিহ্নিত সম্ভব। এই কাজের জন্য টেন্ডার ডেকেছে কেএমডিএ।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মা উড়ালপুলে যে ল্যাম্পপোস্টগুলি রয়েছে সেগুলি জিআই (গ্যালভানাইজড আয়রন) পোল। ওর গায়ে নাম্বারিং করলে তা থাকবে না। তাই বাতিস্তম্ভের বেস’এ অর্থাৎ যে কংক্রিটের কাঠামোর উপর পোল দাঁড়িয়ে রয়েছে, তার আগে নম্বর দেওয়া হবে। কেএমডিএ’র এক কর্তা বলেন, একাধিকবার দুর্ঘটনার জেরে মা’য়ের উপর পোল ভেঙেছে। তাছাড়া বাইক বা গাড়ি দুর্ঘটনা হলে কোন লোকেশনে তা ঘটেছে নিঁখুতভাবে বলা সম্ভব হয় না। পোলের গায়ে নম্বর দেওয়া থাকলে পুলিস সহজেই বলতে পারবে কোন বাতিস্তম্ভ ভাঙল বা কত নম্বরের ল্যাম্পপোস্টের সামনে দুর্ঘটনা ঘটেছে।