


মুম্বই: ২০১৩ থেকে আইপিএল অভিযানের শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়া অভ্যাসে পরিণত হয়ে দাঁড়িয়েছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের। রবিবার সেই ধারা ভাঙল নীতা আম্বানির দল। ওয়াংখেড়েতে আরও একবার স্বপ্নভঙ্গ কলকাতা নাইট রাইডার্সের। বেগুনি-সোনালি পতাকা নয়, আরব সাগরের পাড় মাতল নীল রংয়ে। শাহরুখ খানের পাড়ায় ৬ উইকেটে হারল নাইটরা। ২২১ রান তাড়া করতে নেমে ৫ বল বাকি থাকতে জয়ের স্টেশনে পৌঁছাল মুম্বই (১৯.১ ওভারে ২২৪-৪)। ওয়াংখেড়েতে এটাই কোটিপতি লিগে সর্বাধিক রান তাড়া। হার্দিক ব্রিগেডের জয়ের ভিত গড়ে দেয় ওপেনিংয়ে রোহিত শর্মা-রায়ান রিকেলটন জুটির ১৪৮। ৩৮ বলে ৭৬ করে রোহিত ফেরেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ছ’টি ছক্কা ও ছ’টি চার। দুর্ভাগ্যজনকভাবে শতরানের দোরগোড়ায় পৌঁছে রান আউট হন রিকেলটন (৪৩ বলে ৮১)। তিনি মারেন আটটি ছক্কা ও চারটি চার। এই পরাজয়ে নাইট বোলিংয়ের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। হতাশ করলেন বরুণ চক্রবর্তী, বৈভব অরোরারা।
নাইট অধিনায়ক তথা মুম্বইয়ের ভূমিপুত্র অজিঙ্কা রাহানে টসের সময় জানান যে ওয়াংখেড়েতে কখনও এত বেশি ঘাস দেখেননি। হোমটিমের ক্যাপ্টেন হার্দিক পান্ডিয়ার ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্তে তাই চমক ছিল না। তবে বাস্তবে সেই সুবিধা কাজে লাগাতে ব্যর্থ মুম্বই পেসাররা। নাইট ইনিংসের শুরুতে রাহানের সঙ্গে ঝড় তোলেন ফিন অ্যালেন। পাওয়ার প্লে’তেই ওঠে ৭৮ রান। কলকাতার হয়ে প্রথম ম্যাচেই নজর কাড়েন কিউয়ি ওপেনার। ১৭ বলে ৩৭, ছ’টি চার ও দু’টি ছক্কা হাঁকান অ্যালেন। রাহানেও যাবতীয় সংশয়কে ওড়ান মাঠের বাইরে। ৪০ বলে ৬৭, পাঁচটি ছক্কা ও তিনটি চারে সাজানো ইনিংসেই তা প্রতিফলিত। মুম্বইয়ের আর এক ভূমিপুত্র অঙ্গকৃশ রঘুবংশী ২৯ বলে করেন ৫১। যাতে থাকল ছয়টি চার ও দুটো ছক্কা। তিন নম্বরে নামা ক্যামেরন গ্রিনের নাইট জার্সিতে অভিষেক যদিও খুব একটা ভালো হল না। ১০ বলে তাঁর সংগ্রহ ১৮। বলও করলেন না তিনি। রিঙ্কু সিং (২১ বলে অপরাজিত ৩৩) যদিও চেনা ছন্দে ছিলেন। মুম্বইয়ের সফলতম বোলার শার্দূল ঠাকুর (২-৩৯)। তিনিই ম্যাচের সেরা। যশপ্রীত বুমরাহও ভালো বল করলেন শেষলগ্নে।
রান তাড়ার শুরুতেই ঝড় তোলেন রোহিত, রিকেলটন। পাওয়ার প্লে’র ছয় ওভারের শেষে বিনা উইকেটে ৮০ তোলে মুম্বই। একশো রান আসে ৮.১ ওভারে। হিটম্যানকে দেখাচ্ছিল মেজাজে। তাঁর পঞ্চাশ আসে মাত্র ২৩ বলে। রিকেলটনও ছিলেন বিধ্বংসী ছন্দে। পঞ্চাশে পৌঁছাতে নেন ২৪ বল। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার সূর্যকুমার যাদব (১৬) ও তিলক ভার্মা (২০) অবশ্য ছন্দে ছিলেন না। তবে হার্দিক পান্ডিয়া (অপরাজিত ১৮) ও নমন ধীর (৫) জিতিয়ে ফেরেন মুম্বইকে। এদিনই কিয়েরন পোলার্ডকে (১৮৯ ম্যাচ) টপকে বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে আইপিএলে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েন সুনীল নারিন। কিন্তু পরাজয়ই সঙ্গী হল ক্যারিবিয়ান তারকার। পায়ে টানের জন্য রাহানে উঠে আসায় দীর্ঘসময় নেতৃত্ব দেন রিঙ্কু। নেতৃত্বে অভিষেকও ঘটে ওয়াংখেড়েতে। যদিও তা সুখের হল না । আসলে দিনটাই যে ছিল না নাইটদের!