


অভিজিৎ চৌধুরী, চুঁচুড়া: শহরের নিকাশি নালার জল বহন ক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক সাফাই মেশিন কিনছে চুঁচুড়া পুরসভা। ইতিমধ্যেই দু’রকমের মেশিন পুরসভায় এসে গিয়েছে। মার্চ মাস থেকেই সেই সব মেশিনগুলিকে কাজে নামানো হবে। আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহারের জেরে কম সময়ে বেশি কাজ হবে। তেমনই নিকাশি নালার গভীর পর্যন্ত সাফাই করা যাবে। তাতে নালার জল উপচে যাওয়া, জমাজলের সমস্যা মিটবে। নালার সাফাইয়ে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলে বিভিন্ন পতঙ্গবাহিত রোগের প্রকোপও কমে যাবে।
চুঁচুড়া পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’রকমের মেশিনকে কাজে লাগানো হবে। তার একটি নালার গভীরে গিয়ে কাদামাটি, সহ নালার মধ্যে জমে থাকা যাবতীয় জিনিস শোষণ করে নিয়ে আসবে। কার্যত সাকশন পাম্পের মতো ওই যন্ত্র আধঘণ্টায় বড় আকারের নালা শুকিয়ে দিতে পারে। মূলত, বড় নালাতে ব্যবহারের উপযোগী ওই যন্ত্র একটি কেনা হয়েছে। অন্য আর এক রকমের আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে নানা রকমের ঝুড়ি ব্যবহার করে নালা সাফাই করা হবে। তাতেও কাদামাটির পাশাপাশি থার্মোকলের নানা জিনিস, প্ল্যাস্টিক সহ নানা বর্জ্য সহজেই তুলে আনা যাবে। ওই রকমের মেশিন দু’টি কেনা হয়েছে। পুরসভার সাফাই বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল সদস্য জয়দেব অধিকারী বলেন, দ্রুত ওই আধুনিক মেশিনগুলি শহরের নালা সাফাইয়ের কাজে নামবে। এককথায়, শতাব্দী প্রাচীন শহরের নিকাশি ব্যবস্থায় বিপ্লব আসতে চলেছে। কম সময়ে বেশি কাজ এবং গভীরে গিয়ে নালা পরিষ্কারের ওই ব্যবস্থায় শহরের নালা দিয়ে দ্রুত গতিতে জল যাবে। যা আমাদের একগুচ্ছ সমস্যার সমাধান করে দেবে। নাগরিক পরিষেবার মান একধাক্কায় উন্নততর হবে। পুরসভার চেয়ারম্যান অমিত রায় বলেন, মানুষের পরিষেবার মানকে প্রতিদিন বাড়তি উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য। পুরসভার সাফাইবিভাগও সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।
চুঁচুড়া পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরজুড়ে একগুচ্ছ বড় আকারের নালা আছে। মুখ্যত, শহরের ছোট ছোট নালাগুলি ওই বড় নালাতে গিয়ে জুড়ে যায়। কিন্তু নানা কারণে সেই সব নালা বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে পরিষ্কারের ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি ছিল। সেই ত্রুটি সংশোধন করে পরিষেবাকে বাস্তবমুখী করতে এবার আধুনিক যন্ত্রের হাত ধরছেন পুরকর্তারা।