


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ছোট একটি আংটির ভেতর দিয়ে অনায়াসে গলিয়ে নেওয়া যায় আস্ত একটি শাড়ি! না, এ রূপকথা নয়। বাংলার প্রাচীন ও গৌরবময় বস্ত্র মসলিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ব্রিটিশ আমলে হারিয় যাওয়া সেই ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রই এবার শারদোৎসবে ফ্যাশনের নতুন ট্রেন্ড। পুরুষ ও মহিলা, সবার কাছেই এবার পুজোর ‘হট ফেভারিট’ মসলিনের পোশাক। খাদি বোর্ডের হাত ধরে এই সুক্ষ্ম সূতির পোশাক এখন ফ্যাশনের শীর্ষস্থান দখল করেছে।
মহিলারা পুজোর পোশাকের তালিকায় রাখছেন মসলিনের উপর হ্যান্ডপ্রিন্ট ও ব্লকপ্রিন্টের সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি, স্কিপার, স্কার্ট, পালাজো ও বিভিন্ন ধরনের টপ। পাশাপাশি হাল আমলের ট্রেন্ডি পোশাক যেমন কো-অর্ডস, স্যুট, হল্টার বা শ্রাগও তৈরি হচ্ছে মসলিনের কাপড়ে। পুরুষদের মধ্যেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মসলিনের তৈরি পাঞ্জাবি, কুর্তি ও শার্ট।
ইতিহাস বলে, মসলিন উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত ছিল ঢাকা, মুর্শিদাবাদ, শান্তিপুর, মালদহ ও হুগলি জেলা। দুশো বছর আগে ঢাকায় তৈরি মসলিন ছিল বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান বস্ত্র। বর্তমানে মুর্শিদাবাদে সেই হৃতগৌরব আবার ফিরে এসেছে। নবগ্রামের পাঁচগ্রামের বাসিন্দা ইকবাল হোসেন গত কয়েক বছর ধরে মসলিন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। তিনি জানান, ‘দীর্ঘদিন ধরে মসলিনের কাজ করলেও এ বছর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। মেয়েদের টপ, কুর্তি, বেবিস্যুট সহ বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের পোশাক তৈরি করছি। সেইসঙ্গে ছেলেদের জামা, পাঞ্জাবি, কুর্তা তো আছেই।’
মসলিনের কাপড়ের মানের ওপর ভিত্তি করে দাম নির্ধারিত হয়। উন্নতমানের মসলিনের শার্টের দাম প্রায় ১২০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গ খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদের প্রকল্প আধিকারিক (গবেষণা ও প্রশিক্ষণ) দেবর্ষি রায় জানান, রাজ্যের বিভিন্ন মেলায় মসলিনের উপর হ্যান্ডপ্রিন্ট ও ব্লকপ্রিন্টের নানারকম পোশাক প্রদর্শন করে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গিয়েছিল। সেই চাহিদাকে মাথায় রেখেই শিল্পীদের দিয়ে প্রচুর পোশাক প্রস্তুত করানো হয়েছে। যা এবার পুজোয় সাড়া ফেলেছে। দৌলতাবাদের কাপড় ব্যবসায়ী প্রণব মণ্ডলের মতে, মসলিনের থানের ব্যবসাও এবার চাঙ্গা। সুতোর কাউন্টের ওপর নির্ভর করে প্রতি মিটারের দাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে থাকে। উৎসবের মরশুমে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতাদের মতে, দিনে দিনে যেভাবে গরমের তীব্রতা বাড়ছে, তাতে দাম একটু বেশি হলেও আরামদায়ক পোশাক হিসেবে মসলিনের বিকল্প নেই।
• জোরকদমে কেনাকাটা। নিজস্ব চিত্র