


নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে বিবেচনাধীন তালিকায় ১ হাজার ২৩৭ জনের নাম বাদ গিয়েছে। নাম বাদ যাওয়া ব্যক্তিরা জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে ভিড় জমাচ্ছেন। পুনরায় নাম তুলতে ফর্ম ফিলাপ করে আবেদন করছেন তাঁরা। কমিশনের ওয়েব সাইটে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নাম আপলোড হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে কলকাতা হাই কোর্ট ট্রাইবুনাল গঠন করেছে। রাজ্যের ২৩ জেলার জন্য ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নিয়ে ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠিত হয়েছে। এই ট্রাইবুনালে নাম বাদ যাওয়া ভোটাররা আবেদন করতে পারবেন। কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদন করা যাবে ট্রাইবুনালে। আবার জেলাশাসক ও ব্লক প্রশাসনের দপ্তরে গিয়ে অফলাইনেও আবেদন করতে পারেন।
জেলা প্রশাসনের তরফে নাম বাদ যাওয়া ব্যক্তিদের অনলাইনে আবেদনের জন্য জোর দেওয়া হচ্ছে। ঝাড়গ্রামের মতো প্রান্তিক এলাকার বাসিন্দারা যা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। আবেদনকারীকে ঠিকানা দেওয়ার পাশাপাশি কেন আপিল করছেন তাও উল্লেখ করতে হচ্ছে। সবশেষে কোন জায়গার তিনি ভোটার ছিলেন, সেটা উল্লেখ করতে হচ্ছে। সব তথ্যপূরণের পরেও অনেক ক্ষেত্রেই আবার সাবমিট হচ্ছে না। বিবেচনাধীন তালিকায় নাম বাদ যাওয়া সব ব্যক্তিরা ভোট দিতে পারবেন কি না তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্নচিহ্ন।প্রশাসনিক সূত্র অনুযায়ী জেলায় বিবেচনাধীন তালিকায় ৬ হাজার ৬৮২ জনের নাম ছিল। তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে কোনো একটি পরিবারের এক জনের নাম উঠেছে কিন্তু অন্য জনের নাম বাদ গিয়েছে। তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ঝাড়গ্রামের ব্লকের কটুশোল গ্ৰামের শেখ সিরাজ আলি বলেন, শুনানিতে আমি, আমার স্ত্রী ও বউদি তিনজনেই ডাক পেয়েছিলাম।
বিবেচনাধীন তালিকায় স্ত্রী ও বউদির নাম ওঠে। কিন্তু তালিকায় দেখা গিয়েছে, দু’জনের নামই বাতিল হয়েছে। জামবনী ব্লকের চিচিড়ায় ৬৫ জনের নাম বাদ গিয়েছে। বাদ যাওয়ার মধ্যে অধিকাংশই আবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। চিচিড়ার বাসিন্দা রুকসান বিবি বলেন, নাম কেন বাদ গেল জানি না। ভোট এবার দিতে পারব কি না তাও জানি না। অপর বাসিন্দা ঊষারানি নায়েক বলেন, অফলাইন বা অনলাইন আবেদন করার জন্য বলা হচ্ছে। এই বিষয়ে কিছু জানি না। ভোট দিতে না পারলে কী হবে সেই ভেবে উদ্বেগে রয়েছি। ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ভোটার তালিকায় পুনরায় নাম তোলার জন্য অফিসে এসে ফর্ম জমা দিচ্ছেন। কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রথম থেকেই ফর্ম সাবমিট করতে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। নাম বাদ পড়া ব্যক্তিদের অনলাইনে আবেদনের জন্য বলা হচ্ছে।
ঝাড়গ্রাম জেলা মুসলিম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ নবাব আলি বলেন, এস আইআর পর্বের শুরু থেকেই হয়রানি চলছে। বিবেচনা ধীন তালিকায় বাদ যাওয়া ভোটারদের অধিকাংশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। নতুন করে আবেদন করার জন্য চরম হয়রানির মধ্যে পড়তে হচ্ছে।