


নয়াদিল্লি: রাজনৈতিক নেতারা হাত-পা বেঁধে দেওয়াতেই অপারেশন সিন্দুরের সময় ভারতকে যুদ্ধবিমান হারাতে হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় আয়োজিত এক সেমিনারে দাবি করেছেন ভারতীয় নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন শিব কুমার। তিনি ইন্দোনেশিয়ায় ভারতের ডিফেন্স অ্যাটাচে (দূতাবাসে সেনার প্রতিনিধি)-র দায়িত্বে রয়েছেন। গত ১০ জুন জাকার্তার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তানের আকাশ যুদ্ধ সংক্রান্ত ওই সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বক্তৃতা দেওয়ার সময় ভারতের ওই সেনা আধিকারিক জানান, ৭ মে রাতে অপারেশন সিন্দুরের প্রথম দিন পাকিস্তানে অবস্থিত জঙ্গি ঘাঁটিগুলিকে টার্গেট করেছিল ভারত। কিন্তু সরকার থেকে বলা হয়েছিল, পাকিস্তানের সেনা পরিকাঠামো বা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমে হামলা চালানো যাবে না। তার জন্যই যুদ্ধবিমান হারাতে হয়। তবে ভারতের প্রচুর যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়ো। ডিফেন্স অ্যাটাচের এই বক্তব্য সামনে আসতেই সরব হয়েছে কংগ্রেস। দলের সাংসদ জয়রাম রমেশ এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, প্রথমে সিঙ্গাপুরে গিয়ে চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ এই নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছিলেন। এখন ইন্দোনেশিয়ায় আর এক সেনা আধিকারিকও মুখ খুলেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এখনও কেন সর্বদলীয় বৈঠক ডাকছেন না? কেন বিরোধীদের সব কিছু স্পষ্ট করে জানিয়ে সমর্থন চাওয়া হচ্ছে না? সংসদে যৌথ অধিবেশনের দাবি খারিজ করে দেওয়া হল কেন?
অপারেশন সিন্দুরের পর থেকেই পাকিস্তান দাবি করে এসেছে, ভারতের অন্তত ছয়টি যুদ্ধবিমান তারা ধ্বংস করে দিয়েছে। যার মধ্যে অত্যাধুনিক রাফাল বিমানও রয়েছে। যদিও ভারত সরকারিভাবে এই নিয়ে কোনও বিবৃতি দেয়নি। চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ অনিল চৌহান প্রথম এই নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি জানান, কতগুলি বিমান হারাতে হয়েছে, সেটি বড় বিষয় নয়। কেন সেগুলিকে হারাতে হয়েছে, সেটিই বড় বিষয়। ক্যাপ্টেন শিব কুমারও ক্ষয়ক্ষতির থেকে ভারত কীভাবে পাকিস্তানে সফল প্রত্যাঘাতে সফল হয়েছে, তার উপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধবিমান হারানোর পর আমরা কৌশল পরিবর্তন করি। পাকিস্তানে সামরিক পরিকাঠামোতেও আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ধ্বংস করে দেয় ভারতীয় সেনা। এরপর ব্রাহ্মস সহ বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র পাক সেনার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে আছড়ে পড়ে। যার নিট ফল, যুদ্ধবিরতির আবেদন করতে বাধ্য হয় ইসালামাবাদ।