


নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ধসপ্রবণ খনি অঞ্চলে বাসিন্দারা যেন ‘তীর্থের কাক’। প্রায় দু’দশক আগে সুপ্রিম কোর্ট ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও আজও পুনর্বাসন পেল না খনি অঞ্চলের ২৯ হাজার পরিবার। ভোট এলেই নেতারা পুনর্বাসন নিয়ে রাজনৈতিক সুর চড়ান। একের পর এক নির্বাচন পার হয়েছে, মানুষ প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছুই পায়নি। শাসকদলের দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা রাজ্যের প্রস্তাব অনুমোদন করেনি বলেই জটিলতা বাড়ছে। যদিও তা মানতে নারাজ বিজেপি।
আসানসোলের প্রাক্তন এমপি হারাধন রায় খনি অঞ্চলের মানুষের পুনর্বাসনের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন। সেই রায়ে তৈরি হয় রানিগঞ্জ খনি পুনর্বাসন প্রকল্প। সিদ্ধান্ত হয়, পুনর্বাসনের টাকা দেবে ইসিএল এবং প্রকল্প বাস্তবায়িত করবে রাজ্য সরকারের অধীন সংস্থা এডিডিএ। বাম আমলে আসানসোল, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া, অণ্ডাল, পাণ্ডবেশ্বরজুড়ে সার্ভে হয়। পরে তৃণমূল কংগ্রেসের আমলেও আরও এক দফা সার্ভে হয়। সেখানে শতাধিক জায়গাকে ধসপ্রবণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। সেই সময়ে সেখানে ২৩ হাজার ভূমিহীন পরিবারের বসবাস ছিল। আর ছ’হাজার পরিবারের ধসপ্রবণ এলাকায় নিজস্ব জমি ছিল। দু’টি পৃথক শ্রেণির ক্ষতিপূরণের প্যাকেজ তৈরি করা হয়। তারপর দামোদর, অজয় দিয়ে বহু জল গড়িয়ে গিয়েছে। নানা কারণে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়নি। এই অবস্থায় ২০০৯ সালের পর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে পুনর্বাসন খনি অঞ্চলের ভোটে বড় ইস্যু হয়েছে।এডিডিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন আগে পুনর্বাসন প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন পরিবার বড়ো হয়েছে। জমিহীনদের একটি দু’কক্ষের ফ্ল্যাট বরাদ্দ ছিল। এই ফ্ল্যাটে সংসারের এতজন সদস্যর থাকা সম্ভব নয়। তাই কেউ এডিডিএর তৈরি পুনর্বাসনের জন্য তৈরি ফ্ল্যাটে আসতে চাইছেন না। তাই এডিডিএ সবপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি বিকল্প পুনর্বাসন প্যাকেজের খসড়া তৈরি করে। সেখানে ভূমিহীন প্রতিটি পরিবারকে দু’টি করে ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সঙ্গে আরও কিছু আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির উল্লেখ করা হয়। রাজ্য সেই খসড়া প্রস্তাবের অনুমতি দিয়ে অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠায়। কিন্তু এখনো সেখান থেকে ছাড়পত্র আসেনি।এডিডিএ চেয়ারম্যান কবি দত্ত বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন পেলে আমরা বিকল্প প্যাকেজ সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারি।
অণ্ডাল ব্লকের ভয়ানক ধসপ্রবণ এলাকা হরিশপুর। সেখানে আবার সমগ্র এলাকাটি পুনর্বাসন প্রকল্পের অধীনে নয়। পুরো গ্রামকে যাতে পুনর্বাসন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সেই কারণে সচেষ্ট হয়েছেন রানিগঞ্জের বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ইসিএলের সিএমডির সঙ্গে দেখা করে পুরো বিষয়টি তুলে ধরেন। তাপসবাবু বলেন, বহু বছর আগে সার্ভে হয়েছে। তারপর ধসপ্রবণ এলাকা বেড়েছে। নতুন নতুন এলাকায় ধস নামছে। তা অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। সিএমডির সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
বিজেপি জেলা সহ সভাপতি অভিজিৎ আচার্য বলেন, ইসিএল টাকা দিলেও খরচের এনওসি রাজ্য সরকার সময়মতো দেয়নি। সরকার বদলের পর তাঁরা পুনর্বাসন পাবেন।যদিও ইসিএলের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়া নতুন কিছু করা সম্ভব নয়।