


বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: দেশে ৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সের ৫.৪ কোটি মানুষ ভুগছেন ডায়াবেটিসে। তার মধ্যে ৬০ শতাংশ নিজের রোগ সম্পর্কে ওয়াকিবহল। ৪০ শতাংশ মানুষ জানেনই না যে তাঁদের সুগার আছে। আশার কথা হল, নিজের সুগার সম্পর্কে ওয়াকিবহল যাঁরা, তাঁদের প্রায় অর্ধেকই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছেন ডায়াবেটিস। ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে রাখছেন ব্লাড প্রেশারও।
চিকিৎসকরা বলছেন, অর্ধেক সুগারের রোগীর ডায়াবেটিস কন্ট্রোলে রাখা এবং ৬০ শতাংশের ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখা মোটেই মুখের কথা নয়। রোগীদের শুধুমাত্র ‘এটা না’, ‘সেটা না’ বকাঝকা, গঞ্জনা শোনালে হবে না। এই পরিসংখ্যান কিছুটা কৃতিত্বের তো বটেই। সেই কৃতিত্ব রোগী ও পরিজনদেরও।
ভারতীয় এবং মার্কিন চিকিৎসক, গবেষকদের এক যৌথ গবেষণা থেকে উঠে এসেছে এই তথ্য। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন সায়েন্সেস, আইসিএমআর, হারভার্ট প্রভৃতি বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এ বছর সেপ্টেম্বরে বিশ্ববন্দিত মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথে ‘প্রিভ্যালেন্স, অ্যাওয়ারনেস, ট্রিটমেন্ট অ্যান্ড কন্ট্রোল অব ডায়াবেটিস ইন ইন্ডিয়া’ শীর্ষক গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়ে।
দেশের ২৮টি রাজ্য ও ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৫৭ হাজার ৮১০ জনকে নিয়ে করা হয়েছিল সমীক্ষাটি। সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা বলতে এইচবিএওয়ানসি ৭-এর নীচে ও প্রেশার কন্ট্রোল বলতে ১৪০/৯০ এর নীচে রাখা বোঝানো হয়। সমীক্ষায় দেখা যায়, পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মধ্যে ডায়াবেটিস রোগীর আধিক্য সামান্য বেশি। কিন্তু শহর ও গ্রামে এই তুলনা একেবারে আসমান-জমিন। শহরাঞ্চলে ৪৫ ও তার বেশি বয়সিদের ৩০ শতাংশই সুগারের রোগী। গ্রামীণ এলাকায় তা ১৫ শতাংশ। ৪৫ এবং তদুর্ধ্ব জনতার মধ্যে সবচেয়ে ভালো সুগার কন্ট্রোল ৭৫ ঊর্ধ্বদের (৫৮%)। সবচেয়ে খারাপ ৫০-৫৪ বছর বয়সসীমায় (৩৮%)। ৪৫-৪৯ বয়সসীমার মানুষ সবচেয়ে ভালোভাবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখছেন। তারপর থেকে যতই বয়স বাড়ছে, ততই কমছে কন্ট্রোল। চাঞ্চল্যকর তথ্য হল, অল্প আয়ের মানুষজন সুগার (৫১. ৫%) এবং প্রেশার (৬০. ২% ) দুটোই খুব ভালোভাবে কন্ট্রোল করছেন। নিয়ন্ত্রণ কম বরং মধ্যবিত্তদের মধ্যে। উচ্চশিক্ষিতরা অবশ্য সুগার ও প্রেশার— দুই ক্ষেত্রেই রয়েছে মাঝামাঝি অবস্থানে।