


এই বাড়িতে পা পড়েছিল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বুসর। এক সময় নিত্য যাতায়াত ছিল বহু স্বাধীনতা সংগ্রামীরও। কৃষ্ণনগর শহরের এক কোণে সেই ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে এখনও নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে শতাব্দী প্রাচীন ‘নেতাজি ভবন’। হ্যাঁ, সুভাষচন্দ্রের পাদস্পর্শে ধন্য ঐতিহাসিক ভবনটির পরিচয় এখনও তাঁরই নামে। বিশালকায় এই বাড়ির কড়িবরগার ছাদ থেকে দেওয়ালের ইট সবটা জুড়েই রয়েছে বিপ্লবীদের নানা গল্প। কিন্তু এই বাড়ির সঙ্গে কীভাবে নেতাজির যোগাযোগ গড়ে উঠল, তা জানতে ফিরে যেতে হবে ১০০ বছর আগে। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। পাশাপাশি দেশে স্বাধীনতার লড়াইয়ের সলতে পাকতে শুরু করেছে। কৃষ্ণনগরেও তার প্রভাব পড়েছে। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের শহরে তখন শ্রমজীবী মানুষের আনাগোনা। তাঁদের থাকার কথা ভেবেই ১৯১৫ সালে কৃষ্ণনগরের গোলপট্টি এলাকায় একটি ভবন তৈরি করেন শহরের বিশিষ্ট নাগরিক হেমন্ত সরকার। তবে শুধু থাকার ব্যবস্থা করেই ক্ষান্ত থাকেননি। শ্রমজীবী পরিবারগুলির পড়াশোনার ব্যবস্থাও করেছিলেন। চালু হয় নৈশ স্কুল। হেমন্ত ছিলেন নেতাজির পূর্বপরিচিত। সেই সুবাদে এই স্কুলে শিক্ষাদান করেছিলেন সুভাষচন্দ্রও। তবে অনেকেই বলেন, স্কুলের আড়ালে স্বাধীনতা সংগ্রামের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই ছিল তাঁর লক্ষ্য। স্কুলের পড়াশোনা এবং শিক্ষকতার আড়ালে ব্রিটিশ সরকারের চোখ এড়িয়ে বিপ্লবীদের আনাগোনা চলত। নেতাজি যে চেয়ারে বসতেন, যে আয়না ব্যবহার করতেন তা আজও সংরক্ষিত রয়েছে এই ভবনে। রয়েছে নেতাজির একটি মূর্তি আর তাঁর বিভিন্ন সময়ের ছবি। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতিতে এই ভবনের নামকরণ হয়েছিল নেতাজি ভবন। জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ১৭ মে সুভাষচন্দ্র বসুর ব্যবহৃত চেয়ারটির আনুষ্ঠানিক সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন ‘নেতাজি রহস্যের সন্ধানে’ গ্রন্থের লেখক নারায়ণ সান্যাল। ২০১৮ সালে পুরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান অসীম সাহা নেতাজি ভবনের আমূল সংস্কারে উদ্যোগী হন। ফাঁকা অংশকে মূল ভবনের সঙ্গে জুড়ে বিল্ডিং নতুন কাঠামো দেওয়া হয়।