


শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: বারাসত সাংগঠনিক জেলায় বিজেপিতে ঢোকার ‘সরু লাইন’ নিয়ে ফের চর্চা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের নেতাদের নাম করে হুঁশিয়ারি শুরু হয়েছিল ভোটের আগেই। ভোট মিটতেই তাঁদের কয়েকজনকে ঘিরে ‘অরাজনৈতিক’ যোগাযোগের অভিযোগ উঠেছে। আর এই টানাপড়েনের মধ্যেই নতুন জেলা সভাপতি দীপঙ্কর চক্রবর্তীর কড়া বার্তা—‘সরু লাইন করে বিজেপিতে আসা যাবে না।’ দীপঙ্করের কথায়, ৪ মে-এর আগে পর্যন্ত যারা বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচার করেছে, তাদের বিজেপিতে ঠাঁই নেই। দলের জন্য যাঁরা মার খেয়েছেন, তাঁরাই সম্পদ। তাঁদের মানসিকতায় আঘাত করে সংগঠন বাড়ানো হবে না। বিজেপিতে তৃণমূলিকরণের দরজা পুরো বন্ধ!
বারাসত সাংগঠনিক জেলার ভোটের প্রচারে অন্য ছবিই ছিল। বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল নেতাদের নাম করে গ্রেপ্তারির হুঁশিয়ারি দিয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব। অভিযোগের তালিকা ছিল দীর্ঘ। কিন্তু ভোট মিটেছে, সেই তালিকার তুলনায় হাতেগোনা কয়েকজনের গ্রেপ্তারি হয়েছে। বাকিদের কী হল? প্রশ্ন উঠছে বিজেপির অন্দরেই। চর্চার কেন্দ্রে রয়েছে বারাসত বিধানসভা এলাকাও। সদর শহরের একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলারকে ঘিরে বিজেপির অন্দরে আলোচনা চলছে। তাঁদের কয়েকজনের সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের যোগাযোগ তৈরি হয়েছে বলে দলেরই একাংশের দাবি। সরাসরি দলবদল নয়, হাতিয়ার হয়েছে অরাজনৈতিক মঞ্চ। সেখান থেকেই কি তৈরি হচ্ছে ‘সরু লাইন’? বিজেপির নীচুতলার কর্মীদের একাংশের প্রশ্ন আরও কড়া।
তাদের যুক্তি, আগে দল তার পর অরাজনৈতিক যুক্তি। বারাসত সাংগঠনিক জেলার ক্ষেত্রে পালাবদলের পর বড়ো প্রাসঙ্গিক ইস্যু হয়েছে অরাজনৈতিক কথাটি। দলের একাংশের মদতে তারা এখনো ‘সেফ হাউসে’ বলেই খেদ কর্মীদের। এরপরেই তাঁরা বলছেন, স্থানীয় স্তরে তৃণমূলের কাউন্সিলার বা অনান্য জনপ্রতিনিধিদের ফাইল খোলা উচিত। ডাক্তার, শিক্ষক বা ব্যবসায়ী বলে তাঁদের বিজেপিতে ভিড়িয়ে নেওয়া যাবে না। বারাসতের পাশাপাশি অনান্য বিধানসভা কেন্দ্র এলাকায় তাই করা হচ্ছে। দীপঙ্করের বার্তা সেই বিতর্কের মধ্যেই আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। নতুন জেলা সভাপতির বক্তব্য, সরু লাইন করে কেউ বিজেপিতে ঢুকতে পারবেন না। তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলে প্রশ্ন উঠবেই। অতীতে বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ থাকলেও তার হিসাব হবে।
এদিকে সংগঠনেও নজর দিতে শুরু করেছেন দীপঙ্করবাবু। সামনে পুরসভা ভোট। তাই বিধানসভা কেন্দ্র ভিত্তিক বৈঠক করবেন তিনি। বুথ সভাপতিদের কাছ থেকে নেবেন সংগঠনের রিপোর্ট। কোথায় কর্মীদের ক্ষোভ, কোথায় সংগঠনের দুর্বলতা—জানবেন সরাসরি। বারাসত বিজেপিতে তাই নতুন সভাপতির বার্তা দ্বিমুখী। পুরানো কর্মীদের পাশে থাকা, আর দলবদলের ‘শর্টকাট’ বন্ধ করা। প্রশ্নটা এখন একটাই। ভোটের আগে যাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারির হুঁশিয়ারি, তাঁদের জন্য ভোটের পরে কি তৈরি হবে বিজেপিতে ঢোকার সরু রাস্তা? দীপঙ্করের বার্তা বলছে, সেই রাস্তা তৈরি হলে কেটে দেওয়া হবে।