


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাজ্যের আপত্তি হেলায় উড়িয়ে দিয়ে গত ২১ নভেম্বর দেশব্যাপী ‘বিতর্কিত’ চার শ্রম কোড আইন কার্যকর করেছে মোদি সরকার। জানা যাচ্ছে, এই নতুন চারটি আইনে বেসরকারি সংস্থা-প্রতিষ্ঠান কর্মীদের ‘টেক হোম’ স্যালারির পরিমাণ একধাক্কায় অনেকটাই কমে যেতে চলেছে। অর্থাৎ, মাস শেষে বেসরকারি কর্মীদের হাতে তুলনায় কম টাকা বেতন আসবে। কারণ বেতনের একটি বড় অংশ পিএফ খাতে ‘এমপ্লয়িজ কন্ট্রিবিউশন’ হিসেবে জমা পড়বে। এর অর্থ, ‘টেক হোম’ স্যালারি কম মিললেও অবসরকালীন সঞ্চয় বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমানে একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী পিএফ গ্রাহক প্রতি মাসে তাঁর মূল বেতন এবং মহার্ঘ ভাতার ১২ শতাংশ অর্থ ‘এমপ্লয়িজ কন্ট্রিবিউশন’ হিসেবে জমা দেন। নয়া শ্রম কোড আইনের ফলে এই প্রদেয় অর্থের পরিমাণ বাড়বে। ফলে পিএফ খাতে বেশি টাকা জমা পড়বে। স্বাভাবিক নিয়মেই অবসরের সময় অনেক বেশি অর্থ হাতে পাবেন বেসরকারি কর্মচারীরা। কিন্তু ১২ শতাংশের পরিবর্তে পিএফ খাতে কত টাকা প্রদেয় অর্থ হিসেবে নতুন নিয়মে জমা পড়বে? এই সংক্রান্ত কোনও নির্দিষ্ট জবাবই দিতে পারছে না শ্রমমন্ত্রক কিংবা ইপিএফও। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, আইনের ফলে সিটিসির (কস্ট টু কোম্পানি) অন্তত ৫০ শতাংশ বেসিক স্যালারি (মূল বেতন) হিসেবে প্রদান করতে হবে কর্তৃপক্ষকে। এই মুহূর্তে এর পরিমাণ বড়জোর ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ। আইনে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মীদের বেতন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রত্যেক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাকে তার কর্মচারীদের প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে বেতন দিতেই হবে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলিতে সম কাজে সম বেতনের প্রক্রিয়াও বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে।