


সংবাদদাতা, মেখলিগঞ্জ: সুপ্রিম কোর্টের রায়ে রাজ্যে প্রায় ২৬ হাজার চাকরি হারিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের একাংশের ফাঁকিবাজি রুখতে এবার নির্দেশিকা জারি হল মেখলিগঞ্জে।
প্রাথমিকের ক্ষেত্রে কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকে দু’টি শিক্ষা সার্কেল রয়েছে। একটি মেখলিগঞ্জ এবং অপরটি মেখলিগঞ্জ দক্ষিণ। মেখলিগঞ্জ দক্ষিণ চক্রে শিক্ষক শিক্ষিকাদের স্কুলে হাজিরা নিয়ে আগেই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। এবার একই নিয়ম চালু হল মেখলিগঞ্জ চক্রে। শুক্রবার থেকে এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে।
শিক্ষাদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি স্কুলে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। সেই নির্দেশিকা মোতাবেক এবার থেকে স্কুলে উপস্থিত হয়ে সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১১টা বেজে ১৫ মিনিটের মধ্যে প্রত্যেক শিক্ষক শিক্ষিকাকে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষক কিংবা টিচার ইনচার্জ শিক্ষক শিক্ষিকাদের সই সংবলিত হাজিরা খাতার ছবি তুলবেন এবং সেটি ওই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের নির্দিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠিয়ে দেবেন। স্কুল শিক্ষকদের একাংশের ফাঁকিবাজি রুখতে এমন নিয়ম চালু করা হয়েছে বলে কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) পরিতোষ ওরাওঁ এদিন জানিয়েছেন। মেখলিগঞ্জ চক্রের ক্ষেত্রে হাজিরা খাতার ছবি পাঠানোর সর্বশেষ সময় ১১টা ১৫ মিনিট করা হলেও একই ব্লকের অন্তর্গত মেখলিগঞ্জ দক্ষিণ শিক্ষা চক্রের বেলায় এই সময় ১১টা ৫ মিনিট করা হয়েছে।
মেখলিগঞ্জ দক্ষিণ চক্রে আগেই এই নিয়ে নির্দেশিকা জারি করে নিয়ম কার্যকরও করে দেওয়া হয়েছে। এবার একই নিয়ম চালু হল মেখলিগঞ্জ চক্রের ক্ষেত্রেও। শিক্ষাদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়মের কড়াকড়ি হতেই প্রায় সকলেই যথাসময়ে বিদ্যালয়ে হাজির হচ্ছেন। এমনকী, সময়ের পরে আসা শিক্ষকদেরও গতিবিধি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হয়েছে।
অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক জানিয়েছেন, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নিজেদের বিদ্যালয়ের উপস্থিতি জানান দেওয়ার বিষয়ে দারুণ সাড়াও মিলছে। অভিভাবকরাও জানিয়েছেন, এতে শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে। বারুণী হরিবাসর চতুর্থ প্ল্যান প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিদেশ সিংহ বলেন, ফাঁকিবাজি শিক্ষকদের আটকাতে এটা খুবই জরুরি ছিল। যদিও সেই সংখ্যাটা খুবই কম।