


ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: আদিবাসী ও তপশিলিদের পাশে রাজ্য। জলপাইগুড়ি জেলায় এই দুই সম্প্রদায়ের ৭০ হাজারেরও বেশি প্রবীণকে প্রতিমাসে পেনশন দিচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এজন্য ফি মাসে রাজ্যের খরচ হচ্ছে সাত কোটি টাকা। জেলায় এই মুহূর্তে ‘তপশিলি বন্ধু’ পেনশন প্রাপকের সংখ্যা ৫৯ হাজার ৩১৩ জন। অন্যদিকে, ১১ হাজার ৪৬৭ জন পাচ্ছেন ‘জয় জোহার’ পেনশন। জেলার মধ্যে ধূপগুড়ি ব্লকে তপশিলি সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ১৫ হাজার ২১৫ জন প্রবীণ পেনশন পাচ্ছেন। তপশিলি বন্ধু পেনশন পাওয়ার নিরিখে জেলায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ময়নাগুড়ি ব্লক। সেখানে পেনশন প্রাপকের সংখ্যা ১৩ হাজার ৯১৬ জন। তৃতীয় স্থানে রাজগঞ্জ। ওই ব্লকে ১১ হাজার ৩০৭ জন তপশিলি প্রবীণ প্রতিমাসে এক হাজার টাকা করে পেনশন পাচ্ছেন। জলপাইগুড়ি সদর ব্লকে এই পেনশন প্রাপকের সংখ্যা ৯ হাজার ৫৬০ জন এবং মাল ব্লকে ৪ হাজার ৪৪৮ জন।
অন্যদিকে, ষাটোর্ধ্ব আদিবাসীদের জন্য রাজ্য সরকারের যে জয় জোহার পেনশন রয়েছে, জেলায় তা সবচেয়ে বেশি মিলছে মাল ব্লকে, সংখ্যাটা ৩ হাজার ৯১১ জন। দ্বিতীয় স্থানে নাগরাকাটা। সেখানে ২ হাজার ৯৬২ জন এই পেনশন পাচ্ছেন। মেটেলিতে জয় জোহার পেনশন পাচ্ছেন ১ হাজার ৯৮২ জন আদিবাসী প্রবীণ। ধূপগুড়িতে ১ হাজার ৪৩৬ জন জয় জোহার পেনশন পাচ্ছেন। এছাড়াও অন্যান্য ব্লক রয়েছে।
রাজ্যের আদিবাসী ও অনগ্রসর কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বুলুচিক বরাইক বলেন, পাশের রাজ্য অসমে আদিবাসীদের উপর অত্যাচার হচ্ছে। কিন্তু বাংলায় আদিবাসীরা মাথা উঁচু করে বাঁচছেন। আদিবাসী ও তপশিলি সম্প্রদায়কে এগিয়ে নিয়ে যেতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক প্রকল্প চালু করেছেন। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে আদিবাসী ও পিছিয়ে পড়া তপশিলি সম্প্রদায়ের উত্তরণ ঘটছে। এই দুই সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়াতে পেনশনও দিচ্ছে রাজ্য।
১০ মার্চ পর্যন্ত জলপাইগুড়ি জেলায় তপশিলি বন্ধু প্রকল্পে পেনশন পেতে মোট ৬৬ হাজার ৬৯৬ জন আবেদন করেছেন বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর। যার মধ্যে পেনশন পাচ্ছেন, এমন সংখ্যা ৫৯ হাজার ৩১৩ জন।
অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ বিভাগের জেলা প্রকল্প আধিকারিক প্রবীণ লামা বলেন, জয় জোহার ও তপশিলি বন্ধু পেনশন পেতে প্রতিদিনই আবেদন জমা পড়ছে। সেগুলি খতিয়ে দেখে যত দ্রুত সম্ভব অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
আদিবাসী ও তপশিলিদের জন্য রাজ্যের উন্নয়ন প্রকল্প তুলে ধরে জোরদার প্রচারে নেমেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। জলপাইগুড়ি জেলায় সাতটি বিধানসভার মধ্যে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি আসনটি বাদ দিয়ে সবক’টি এসসি এবং এসটি সংরক্ষিত। ফলে প্রতিটি কেন্দ্রেই জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে আদিবাসী ও তপশিলি ভোটব্যাঙ্ক অন্যতম ফ্যাক্টর। সেক্ষেত্রে রাজ্যের উদ্যোগে আদিবাসী ও তপশিলিদের জন্য গত ১৫ বছরের যে উন্নয়ন, সেটাকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে চলছে ‘উন্নয়নের সংলাপ’ যাত্রা।