


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বহিরাগতদের জেলা ছাড়া করতে আজ, বুধবার ম্যারাথন অভিযান চালাবে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে প্রশাসনের আধিকারিকরা জেলার বিভিন্ন লজ, হোটেলে হানা দেবেন। সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দা নন এমন লোকজনকে এলাকাছাড়া করা হবে। বাঁকুড়ার জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনি আধিকারিক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, ভোটের দিন বাইরের লোককে কোনো লজ, হোটেলে ঘাঁটি গেড়ে থাকতে দেওয়া হবে না। বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমরা জেলাজুড়ে অভিযান চালাব। পুলিশের তরফে বিষয়টি থানাগুলিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রচার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ লজ, হোটেলগুলিতে নজরদারি শুরু করবে। উল্লেখ্য, ওড়িশা সহ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি থেকে অনেকে বাঁকুড়ায় এসেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, তালডাংরা, ছাতনা সহ অন্যান্য বিধানসভা এলাকায় বিজেপি তাদের আশ্রয় দিয়েছে। ওইসব জায়গার লজ, হোটেলে ভিনরাজ্যের গেরুয়া শিবিরের নেতাকর্মীরা ঘাঁটি গেড়ে রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে তৃণমূল প্রশাসনের কাছে টাকা বিলির অভিযোগ জমা দিয়েছে। বিজেপি আবার পাল্টা দলের ‘পরিযায়ী’ নেতাকর্মীদের হেনস্তা করার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জেলায় এসে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কমিশনের বিশেষ অনুমতিপত্র ছাড়া ভোটের দিন অন্য বিধানসভা এলাকায় থাকা যায় না। মূলত রাজনীতির সঙ্গে যুক্তদের ক্ষেত্রেই ওই বিধি বলবৎ থাকে। তবে, কে রাজনীতি করে আর কে করে না, তা তৎক্ষণাৎ বোঝা মুশকিল। সেই কারণে বিধানসভার বাসিন্দা নন এমন লোকজনকে এলাকার লজ হোটেলে থাকতে দেওয়া হয় না। কিন্তু কেউ আত্মীয় সাজিয়ে বাড়িতে কাউকে আশ্রয় দিলে প্রশাসন কী করবে? জেলা নির্বাচন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, কারও বাড়িতে আত্মীয় থাকতে পারে। তবে, সেটা সংখ্যায় বেশি হবে না। ভোটের মাঝে সাধারণত কোনো পারিবারিক অনুষ্ঠান কেউ করে না। ফলে ওইদিন আত্মীয় আসার কোনো কারণ দেখাতে না পারলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আত্মীয়ের ছদ্মবেশে দুর্বৃত্তদের আশ্রয় দেওয়া হলে গৃহস্থ গ্রেপ্তার পর্যন্ত হতে পারে। বাঁকুড়া স্টেশনে পৌঁছল কেন্দ্রীয় বাহিনী। ছবি: ভৈরব দাস।