


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আগে সংসদ চত্বরে সর্বদা দৃশ্যমান হলেও এখন মহাত্মা গান্ধী, বি আর আম্বেদকরের মূর্তি লোকচক্ষুর আড়ালে সরিয়ে দিয়েছে সরকার। এমনই অভিযোগ বিরোধীদের। বৃহস্পতিবার সংসদ চত্বরে ‘প্রেরণাস্থলে’ ওই দুই মহান নেতার মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানিয়েই উপরাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেশ করলেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বালাকৃষ্ণ সুদর্শন রেড্ডি। রাজ্যসভার সেক্রেটারি জেনারেল তথা উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার পি সি মোদির কাছে মনোনয়নপত্র পেশ করলেন তিনি। প্রস্তাবক হিসেবে সই করলেন ১৬০ জন বিরোধী সাংসদ। যার মধ্যে তৃণমূলের ১০ জন।
মনোনয়ন পেশের সময় সুদর্শন রেড্ডির পাশে ছিলেন সোনিয়া গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, শারদ পাওয়ার, শতাব্দী রায়, সঞ্জয় রাউতের মতো সাংসদরা। মোদি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক না হলেও বিরোধীদের প্রার্থীকেই ভোট দেবেন বলে জানিয়েছে আম আদমি পার্টি। যদিও এদিন অবশ্য মনোনয়ন পেশের সময় আপের সঞ্জয় সিংকে দেখা যায়নি। তাই মনোনয়ন পেশ করার পর উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সমর্থন চাইতে এদিন বিকালে সুদর্শন রেড্ডি সবার আগে ভোট প্রচার শুরু করলেন আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিয়ালকে দিয়ে।
অন্ধ্রপ্রদেশের ব্যক্তিত্ব সুদর্শন রেড্ডি দিল্লিতে আপাতত থাকছেন মান সিং রোডের এক পাঁচতারা হোটেলে। সেখান থেকেই বিরোধী সাংসদরা তাঁকে নিয়ে যান ফিরোজ শাহ রোডে কেজরিওয়ালের বাংলোয়। আলোচনা হয় ভোট নিয়ে। সংবিধান রক্ষার লড়াই নিয়ে। সুদর্শন রেড্ডি জানান, ‘হারজিৎ কোনও বিষয় নয়। সংবিধান রক্ষা, সংসদের মতো প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখাটাই আমার কাছে অগ্রাধিকার।’ সংখ্যা বিচারে সুদর্শন রেড্ডির জয়ের সম্ভাবনা নেই। তবুও নিজেদের প্রার্থীর ভোট নিশ্চিত করতে বিরোধীরা আগামী ৮ সেপ্টেম্বর আয়োজন করেছে মক পোল। অর্থাৎ নকল ভোট। সাংসদের শেখানো হবে কেমন করে ভোট দিতে হয়। লোকসভা-রাজ্যসভা মিলিয়ে মোট ৭৮১ সাংসদ উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। প্রার্থীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ৩৯১। সরকারপক্ষের কাছে আছে ৪২২।