


সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: ডুয়ার্সের ভারত-ভুটান সীমান্ত লাগোয়া দলসিংপাড়া চা বাগানের যুবক মনোজকুমার শাহ দেড় মাস আগে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁর মুখে টিউমার অস্ত্রোপচার করা হবে, চিকিৎসকরা তা জানিয়েছিলেন। কিন্তু অস্ত্রোপচার না করে রবিবার দুপুরে কোনো কারণ না জানিয়ে তাঁকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। আর এরপরেই উত্তরবঙ্গ মেডিকেলের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দিকটি সামনে এসেছে।
সোমবার রোগীর বাবা মানিকচাঁদ শাহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি জানালে ইএনটি বিভাগের কিছু চিকিৎসকের কর্তব্যে চরম গাফিলতি ধরা পড়ে। বায়োপসি রিপোর্ট আসার পর ডাক্তাররা জানতে পারেন ওই যুবক ক্যান্সার আক্রান্ত। অভিযোগ, তারপরেই অস্ত্রোপচার না করে তড়িঘড়ি রোগীকে ছুটি দেওয়া হয়।
মানিকচাঁদ শাহ বলেন, অস্ত্রোপচার হবে বলে আমাকে দুই ইউনিট রক্ত জোগাড় করতে বলা হয়েছিল। তা করে দিয়েছি। বাইরে থেকে বায়োপসি রিপোর্টও করিয়ে আনি। তারপরেও অস্ত্রোপচার না করে আমার ছেলেকে ছুটি দেওয়া হয়। কেন এমন করা হল, এরপর আমার ছেলের কোথায় কী চিকিৎসা করাতে হবে তাও আমাকে বলা হয়নি।
এদিন হাসপাতালের অ্যাডিশনাল সুপার ডাঃ নন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সব রিপোর্ট নিয়ে দেখা করে অভিযোগ জানান মানিকচাঁদ। ডাঃ বন্দ্যোপাধ্যায় ডিসচার্জ সার্টিফিকেট দেখে বিস্মিত হন। তিনি বলেন, বায়োপসি রিপোর্টে ক্যান্সার আক্রান্ত দেখার পর ছুটি না দিয়ে ক্যান্সার বিভাগে রেফার করতে হত। রোগীর পরিবারকেও সবটা ভালোমতো বুঝিয়ে দেওয়া দরকার ছিল। এর কোনোটিই করা হয়নি। এরপর তিনি ইএনটি বিভাগের প্রধান ডাঃ রাধেশ্যাম মাহাতকে গোটা বিষয়টি জানান। অ্যাডিশনাল সুপার বলেন, বিষয়টি খুব দুঃখজনক। ডাঃ রাধেশ্যাম মাহাতর কথা মতো রোগীকে তাঁর কাছে পাঠানো হয় এবং ক্যান্সার বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। এখন কেমোথেরাপি চলবে।
এভাবে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় ইএনটি বিভাগের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের কর্তব্যে দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডাঃ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, চিকিৎসা পরিষেবায় কাউন্সেলিং চিকিৎসকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এ ক্ষেত্রে রোগীর পরিবারকেই গোটা বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়া দরকার ছিল।
শেষ পর্যন্ত ছেলের চিকিৎসা উত্তরবঙ্গ মেডিকেলেই শুরু হওয়ায় হাফ ছাড়েন বাবা মানিকচাঁদ শাহ। তিনি বলেন, এদিন হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে আমার ছেলের চিকিৎসা শুরু হল। আমাদের মত গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য এই মেডিকেল কলেজই ভরসা। গত দেড় মাস কষ্ট করে সব সহ্য করেছি। বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছিলাম।