


ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: একুশে তিন দফায় হলেও উত্তরবঙ্গে এবার এক দফাতেই নির্বাচন। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় রাজ্যের ১৬টি জেলার যে ১৫২টি আসনে ভোট হবে, তারই মধ্যে রয়েছে উত্তরের আট জেলার ৫৪ কেন্দ্র। রবিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের তরফে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই হিলি থেকে হলদিবাড়ি, সর্বত্রই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে ডান-বাম সবপক্ষ। প্রার্থী তালিকা ঘোষণা না হলেও শুরু হয়ে গিয়েছে দেওয়াল লিখন। মিছিল-মিটিংয়ে জোর দিয়েছে শাসক ও বিরোধীরা। এসআইআর প্রক্রিয়ায় উত্তরের প্রতিটি জেলায় প্রচুর ভোটারের নাম বিচারাধীন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া হাজার হাজার মানুষ নতুন করে নাম তোলার জন্য আবেদন করেছেন। তাঁদের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করার দাবিতে সরব তৃণমূল কংগ্রেস। এনিয়ে রবিবার বিভিন্ন এলাকায় মিছিল করে তারা। একই দাবি বামেদেরও।
সর্বশেষ চিত্র অনুযায়ী, উত্তরের ৫৪টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে ২৮টি কেন্দ্র। বিজেপি রয়েছে ২৫টিতে। এর মধ্যে জিএনএলএফের কাঁধে ভর দিয়ে দার্জিলিং কেন্দ্রে গতবার জয়ী হয় পদ্ম পার্টি। কালিম্পং আসনে বিজেপিকে হারিয়ে জয়ী হন অনীত থাপার দলের প্রার্থী।
উত্তরের বহু আসনে নির্ণায়ক শক্তি চা বলয়ের আদিবাসী ভোট। পাশাপাশি রাজবংশী ভোট অন্যতম ফ্যাক্টর অনেক আসনে। এসআইআরে এই দুই সম্প্রদায়ের প্রচুর মানুষের নাম অ্যাডজুডিকেশনের আওতায়। সেইসঙ্গে বহু সংখ্যালঘু ভোটারের নামও বিচারাধীন তালিকায়। ফলে শেষমেশ তাঁদের কতজন ভোটারাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের। এসআইআরের বিরোধিতায় প্রথম থেকেই ময়দানে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। ভোট ঘোষণা হতেই এই ইস্যুতে আরো বেশি করে শান দিতে শুরু করেছে তারা। এসআইআর বিরোধিতার পাশাপাশি রাজ্যের উন্নয়ন প্রকল্প তুলে ধরে লাগাতার প্রচার চালাচ্ছেন শাসকদলের কর্মীরা। তৃণমূলের দাবি, ইতিমধ্যেই ‘হোমওয়ার্ক’ সেরে ফেলেছে তারা। ফলে ভোট ঘোষণা হতেই চনমনে জোড়াফুল শিবির।
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা শিলিগুড়ি পুরসভার মেয়র গৌতম দেব বলেন, আমরা প্রস্তুত। এক সপ্তাহ পর ভোট হলেও আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। নাম না করে বিজেপিকে বিঁধে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহর বক্তব্য, ক’দফায় ভোট হচ্ছে, তা নিয়ে যারা নাটক করে তারা ভাবুক। আমরা নির্বাচনি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। সবচেয়ে বড় কথা, মানুষ তৈরি হয়ে আছে। বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি দীপক বর্মনের অবশ্য দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস এবার উত্তরবঙ্গে দুই অঙ্কের সংখ্যায় পৌঁছতে পারবে না। তিনি বলেন, রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে দুর্নীতিই আমাদের প্রচারের মূল ইস্যু। সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার উত্তরে রাস্তা, সেতু, রেলের মাধ্যমে যে উন্নয়ন করেছে, তা তুলে ধরা হবে।
তবে চা বলয়ের ভোট ভাবাচ্ছে বিজেপিকে। গত কয়েকটি নির্বাচনে স্পষ্ট, চা শ্রমিকরা পদ্ম পার্টির থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। গত লোকসভা ভোটে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলা মিলিয়ে চা বলয়ের ৪৮৩টি বুথের মধ্যে ২৪৪টিতে এগিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস। দার্জিলিং জেলার সমতলে চা বলয়ের ৭১টি বুথের মধ্যে চব্বিশের ভোটে তৃণমূল এগিয়ে ছিল ৩৮টিতে। মাদারিহাট উপনির্বাচনে চা বাগানের ১০০টি বুথের ৮১টিতেই জয়ী হয় তৃণমূল। যদিও বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতির দাবি, চা বাগানের শ্রমিকরা আমাদের সঙ্গে ছিলেন। এবারের ভোটেও থাকবেন।