


বেলগ্রেড: জল্পনাই সত্যি হল। সরকারের রক্তচক্ষুর সামনে তল্পিতল্পা গোটাতে বাধ্য হলেন নোভাক জকোভিচ। সপরিবারে সার্বিয়া ত্যাগ করলেন টেনিস ইতিহাসের সফলতম তারকা। এখন তিনি গ্রিসের নাগরিক। একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সে দেশের রাজধানীতে বসবাস করছেন জোকার।
‘দ্য ডেইলি মেল’ জানিয়েছে, এথেন্সের দক্ষিণ প্রান্তের একটি এলাকায় বাড়ি কিনেছেন জকোভিচ। শুধু তাই নয়, ছেলেমেয়েদের ইতিমধ্যে সেখানকার স্কুলেও ভর্তি করে দিয়েছেন তিনি। ১০ বছরের ছেলে স্টেফান এবং ৮ বছরের মেয়ে তারা পড়াশোনা করছে সেন্ট লরেন্স নামের একটি নামকরা বেসরকারি স্কুলে। সম্প্রতি এথেন্সের কাভুরি টেনিস ক্লাবে ছেলের সঙ্গে খেলতে দেখা গিয়েছে জকোভিচকে। শোনা যাচ্ছে, গ্রিক গোল্ডেন ভিসা পেয়েছেন তিনি। গ্রিসের ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করলে এই ভিসা পাওয়া যায়।
জকোভিচের দেশ ছাড়ার নেপথ্যে রয়েছে সার্বিয়ান সরকারের বৈরিতা। ২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদ শহরে একটি রেল স্টেশনের ছাউনি ভেঙে ১৬ জন মারা যান। সেই ঘটনার পর সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করে সার্বিয়ার ছাত্রসমাজ। তাদের পক্ষে দাঁড়ান জকোভিচ। গত ডিসেম্বরে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যুব সম্প্রদায়ের শক্তিতে আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্নকে আমি উৎসাহিত করি। ওদের কণ্ঠস্বর শোনা জরুরি। এগিয়ে চলো, সঙ্গে আছি— নোভাক।’ গত জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে তিনি কোয়ার্টার-ফাইনালের জয় উৎসর্গ করেছিলেন আন্দোলনে প্রয়াত এক ছাত্রকে। সেই থেকে ৩৮ বছরের টেনিস তারকার গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখছিল সার্বিয়ার প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুকিচের মদতপুষ্ট সংবাদমাধ্যমের বক্তব্য, সার্বিয়ার জন্য তাঁর কোনও অবদানই নেই। ব্যক্তিগত স্বার্থে স্রেফ দেশের নাম ব্যবহার করেছেন তিনি। এমনকী, জকোভিচকে ‘ভণ্ড’, ‘মেকি দেশপ্রেমী’ বলতেও দ্বিধা করেনি তারা। এই পরিস্থিতিতে পরিবার ও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন ছিলেন জোকার। তাই বাধ্য হয়েই সিদ্ধান্ত নেন দেশ ছাড়ার।