


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভোট চুরির অভিযোগে প্রতিবাদের পারদ চড়ছে। আওয়াজ উঠছে ‘জ্ঞানেশ কো গ্রেপ্তার করো’। গান্ধী জয়ন্তীতে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তা গতি পাচ্ছে দিল্লি থেকে মুম্বই। ককরোচ জনতা পার্টির অভিজিৎ দিপকে হোক বা আইসার নেহা বোরা—‘জ্ঞানেশ হটাও’ স্লোগান তুলে রাজপথে আছড়ে পড়ছে জেন জি’র ঢেউ। ‘গণতন্ত্র রক্ষা’র ডাক দিয়ে তাই মুম্বইতে যখন শিবসেনা (উদ্ধব), রাজ থ্যাকারের এমএনএস, কংগ্রেস ও এনসিপি ‘গর্জন’ করছে, তাতে সায় দিচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। সেই স্রোতে ভেসে গিয়ে হুংকার ছুড়ছেন দিপকেও, ‘নাও অর নেভার। এটাই সময় এককাট্টা হওয়ার। গোটা দেশের। বিরোধীদের।’ আর যন্তরমন্তর ২.০’র ডাকে দিল্লির দরবারে পৌঁছে যাচ্ছেন নেহা বোরা। ভিড় বাড়ছে চারপাশে। স্লোগান উঠছে গণতন্ত্রের পক্ষে। সুষ্ঠু ভোটের পক্ষে।
বিক্ষোভকারীদের আটকাতে এদিন যন্তরমন্তরমুখী যাবতীয় রাস্তা ব্যারিকেড করা হয়। জনপথ রোড থেকে অশোক রোড। কারণ, সেখানেই রয়েছে নির্বাচন সদন। তা সত্ত্বেও প্রতিবাদীদের দামাল দলকে আটকানো যায়নি। ব্যারিকেডের উপর উঠে চলে বিক্ষোভ। স্লোগান—‘জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা দো’, ‘জ্ঞানেশ কো গিরফতার করো’, ‘দিল্লি পুলিশ শরম করো’। একদিকে ইন্ডিয়া গেট থেকে যন্তরমন্তর প্রতিবাদী মিছিল, অন্যদিকে সংসদ মার্গ থানা ঘেরাও। কারণ, শনিবার যন্তরমন্তরে মহিলা সাংবাদিকদের সঙ্গে অশ্লীলতার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধেই। এসিপি বিবেক ভগতের নামে এফআইআরের দাবি উঠেছে। দিল্লি পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তের জন্য ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাতে অবশ্য পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। রাজধানীর রাস্তায় রবিবার পুলিশ-প্রতিবাদীদের মধ্যে লেগে যায় খণ্ডযুদ্ধ। বাম-ডান রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি উভয়ের ছাত্র সংগঠনও প্রতিবাদে মিলেমিশে এক হয়ে যায়। যোগ দেন সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাসও। বিক্ষোভকারীদের রুখতে যন্তরমন্তরে হাজারো পুলিশ, আইটিবিপি, র্যাফ নামানো হয়। আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন আইসা নেত্রী নেহা। তাই তাঁকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার টার্গেট নেয় পুলিশ। যন্তরমন্তর পৌঁছানোর আগেই নেহাকে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে যায় পুলিশ। আইসার দাবি, সেটি পুলিশের গাড়ি ছিল না। এমনকি গাড়িতে কোনো মহিলা পুলিশকর্মীও ছিলেন না। রাতে নারেলা ইন্ডাস্ট্রিয়াল থানা এলাকায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আম আদমি পার্টির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজকে চ্যাংদোলা করে কার্যত উলটো করে ঝুলিয়ে পুলিশ ভ্যানে তোলা হয়।
শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের উপর এভাবে বলপ্রয়োগের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন নেহা। তাঁর হুংকার, ‘এটা যন্তরমন্তর ২.০। মোদির পতন শুরু।’ আবার অভিজিৎ দিপকের তোপ, ‘অমিত শাহ দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করতে চাইছেন। বুঝিয়ে দিচ্ছেন, ক্ষমতা ধরে রাখতে জ্ঞানু কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে উপহাস করে ‘জ্ঞানু’ নামেই ডাকছে সিজেপি। বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘যে পুলিশের কাজ নিরাপত্তা দেওয়া, সেই পুলিশের জন্যই মহিলারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন! নরেন্দ্র মোদিজি, অমিত শাহজি মহিলাদের সঙ্গে এমন আচরণ করতে হয়?’ এরই মধ্যে মঙ্গলবার বিজেপি বিরোধী সাংসদের মিছিল। সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন সদন অভিযান। ফলে প্রবল চাপে কেন্দ্র। লাঠি না চালিয়েও কীভাবে প্রতিবাদ রোখা যায়, তা নিয়ে দফায় দফায় দিল্লি পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মধ্যে চলছে আলোচনা। জ্ঞানেশ কুমার বড়োই বিপাকে ফেলেছেন মোদি-শাহকে।