


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: সাইবার প্রতারকদের জালে পড়ে ২৫লক্ষ টাকা খোয়ালেন এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী। বাঁকুড়ার শালতোড়া থানা এলাকায় ওই ঘটনা ঘটেছে। প্রতারকদের কথামতো ওই বৃদ্ধ দুই দফায় দু’টি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ট্রান্সফার করেছিলেন। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে সোমবার বাঁকুড়া সাইবার ক্রাইম থানায় তিনি অভিযোগ দায়ের করেন।
তিনি জানিয়েছেন, ২২আগস্ট মুম্বই পুলিসের ক্রাইম ব্রাঞ্চের এডিজি পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি তাঁকে ফোন করেন। বলা হয়, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রতারকরা কোটি কোটি টাকা ট্রান্সফার করেছে। ক্রাইম ব্রাঞ্চের কথামতো না চললে তাঁকে সস্ত্রীক গ্রেপ্তার করা হবে। ভয় পেয়ে ওই বৃদ্ধ প্রতারকের কথামতো কাজ করতে থাকেন। তিনি ব্যাঙ্কে গিয়ে টার্ম ডিপোজিট ভেঙে ফেলেন। পরে দুই দফায় দু’টি অ্যাকাউন্ট থেকে ১১ লক্ষ ও ১৪ লক্ষ টাকা প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে পাঠান।
ওই বৃদ্ধের ছেলে উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক। তাঁকে বিষয়টি জানালে চাকরি যাওয়ার পাশাপাশি ছেলেকে গ্রেপ্তারও করা হবে বলে প্রতারকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। ফলে টাকা পাঠানোর পরই বৃদ্ধ ছেলেকে পুরো বিষয়টি জানান।
বাঁকুড়া জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, ওই বৃদ্ধকে কার্যত ‘হাউস অ্যারেস্ট’ করে রাখা হয়েছিল। দফায় দফায় প্রতারকরা হোয়াটস্অ্যাপে ভিডিও কল করে বৃদ্ধকে সন্ত্রস্ত করে রাখে। ফলে তিনি টাকা ট্রান্সফার করতে বাধ্য হন। কোনও রাজ্যের পুলিস অপরাধের তদন্ত বন্ধে টাকা চাইতে পারে না। কেউ অপরাধ করলে আইনানুগভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাই পুলিস, গোয়েন্দা, শুল্ক, আয়কর বা অন্য দপ্তরের নাম করে কেউ টাকা চাইলে তাড়াতাড়ি নিকটবর্তী থানা বা সাইবার বিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।