


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সুন্দরবন এলাকায় বাম কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রচলিত কথা, ‘ঝড়ের আগে কান্তি আসে!’ এবার ভোটের আগে শুনানির ডাক এলো বাম জমানার মন্ত্রী ৮৩ বছরের কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে। যা পেয়ে তিনি বিস্মিত। ১৯৮৫ সাল থেকে তিনি কাউন্সিলার। ২০০১ সাল থেকে ১০ বছর মন্ত্রী ছিলেন। নির্বাচন কমিশনকে জবাবি চিঠিও দিয়েছেন। বলেছেন, ‘সব নথি দিয়েছি, তবুও ডাক?’ ২ জানুয়ারি বায়দিঘিতে শুনানিতে যাবেন তিনি।
এদিকে, প্রতিথযশা কবি জয় গোস্বামীর কাছেও এসেছে শুনানির ফোন। অসুস্থ কবির কন্যা দেবত্রী জানিয়েছেন, ‘নভেম্বরে তিনটি অস্ত্রোপচার হয়েছে তাঁর। বাবার পক্ষে শুনানিতে যাওয়া কোনওভাবেই সম্ভব নয়।’ তাঁকে শুনানিতে ডাকা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, ‘বাংলা কাব্যে জয় গোস্বামীর অবদান নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। তবে, বিজেপির লোকজন হয়তো তাঁকে চেনেন না। তিনি এদেশীয় মানুষ। তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশের কোনও সম্পর্ক ছিল না। আমার আশঙ্কা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বেঁচে থাকলে তাঁদেরও শুনানিতে ডাকত এই কমিশন।’
দেবত্রী বলেন, ‘২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বাবার নাম ছিল না। তবে খসড়া তালিকায় নাম এসেছে। এটি বয়স্ক মানুষদের ও তাঁদের পরিবারের কাছে হয়রানি ছাড়া আর কিছুই নয়। এতদিন বাদে কাগজ নিয়ে দেখাতে হবে? হতে পারে এসব বিজেপির কার্যকলাপ। বয়স্ক মানুষদের জন্য অন্য ব্যবস্থা করা উচিত ছিল।’ হয়রানি যে শুধু বিশিষ্টদের হচ্ছে তা নয়, একেবারে সাধারণ খেটে
খাওয়া মানুষজনও শীতের সকালে নথি নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে পার্ক সার্কাসের লেডি ব্র্যাবোর্ন কলেজে বিউটি পার্লারের কর্মী ফারা জাহান পৌঁছে গিয়েছিলেন। শুনানি শেষে বেরিয়ে বললেন, ‘বলছে, বাবা-মায়ের কাগজ নিয়ে আসতে। আমরা কি কবর থেকে তুলে আনব? ১৯৬৯ সালের কাগজ খুঁজে নিয়ে এসেছি। এর জন্য কাজে যেতে পারলাম না। অর্ধেক মাইনে পাব।’ আবার হাইকোর্টের কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবী নৌশাদ হুসেন এসেছিলেন ১৯৮৮ সালের মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, পাসপোর্ট নিয়ে। তাঁর বক্তব্য, ‘আমার দাদুর দাদু এখানে জন্মেছেন। আমি হাইকোর্টে ওকালতি করি। আমাকেও আসতে হয়েছে। ১৯৯৫ সালে মৌলানা আজাদ কলেজ থেকে স্নাতক হই। সেই কাগজও এনেছি।’ ষাটোর্ধ্ব সাবরুন নিশা বিরক্ত। তিনি বলছেন, ‘আমার বাবা-মা সেই ছোটবেলায় মারা গিয়েছেন। তাঁদের নথি কোথা থেকে পাব? আমার স্বামীর পাসপোর্ট রয়েছে। সেসব নিয়ে এসেছিলাম। নাম না থাকলে, ভোট দেব না। আমার কোনও সমস্যা নেই।’
কেউ একদিনের রোজগার ছেড়ে, কেউ অসুস্থ শরীর নিয়ে শীতের সকালে লাইন দিচ্ছেন শুনানির জন্য। ক্ষোভের সুরে তাঁদের প্রশ্ন একটাই, ‘আমাদের এই হয়রানি কেন?’