


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পাঁচ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে ২০দিন পর পাওয়া যাবে ৪০ হাজার টাকা। বেশি পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করলে আরও বেশি অর্থ পাওয়া যাবে। এখানেই শেষ নয়, ১৬ হাজার ৫০০টাকা দিয়ে জয়েন করলে প্রতিদিন ৮০০টাকা করে পাওয়া যাবে। মেয়াদ শেষে প্রায় এক লক্ষ টাকা পাওয়া যাবে। যে যত বেশি জয়েন করাবে, সে তত কমিশন পাবে। এই টোপ দিয়ে রাজ্যজুড়ে কয়েকশো কোটি টাকা তুলেছে একটি অনলাইন সংস্থা। প্রথমদিকে কেউ কেউ কিছু টাকা পেয়েছে। কিন্তু আগস্ট মাস থেকে টাকা দেওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন অজুহাতে গ্রাহকদের ফেরানো হচ্ছে। দু’দিন আগে থেকে কেওয়াইসির নামে কারও কাছে ৮১হাজার, আবার কারও কাছে এক লক্ষ টাকা চাওয়া হচ্ছে। তা না দিলে গ্রাহকদের বিরুদ্ধেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে ওই সংস্থা হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় রাজ্যের কয়েক লক্ষ আমানতকারী বিপাকে পড়ে গিয়েছেন। সোমবার তাঁরা বর্ধমান সাইবার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগকারী তৃণমূল নেতা শ্যামল রায় বলেন, সারা দেশজুড়ে ওই সংস্থাটি প্রতারণা করেছে। প্রথমদিকে বলা হতো, দিনে চার-পাঁচটি বিজ্ঞাপন দেখলেই মোটা টাকা পাওয়া যাবে। তারজন্য দু’হাজার থেকে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে জয়েন করতে হবে। বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী টাকা পাওয়া যাবে। সরল বিশ্বাসে অনেকেই জয়েন করেন। পরে লোভ দেখিয়ে আরও বিভিন্ন স্কিমে টাকা জমা করার জন্য বলা হয়। কয়েকদিনের মধ্যে পাঁচ থেকে আটগুণ টাকা ফেরতের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সুবিধা পাওয়ার আশায় অনেকেই ধার করে সেখানে টাকা বিনিয়োগ করেন। কেউ আবার সোনা বন্ধক রেখে টাকা দিয়েছিলেন। আচমকাই ওই সংস্থাটি টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
শ্যামলবাবু আরও বলেন, বর্ধমানের তিন-চারজন এই চক্রের মাথা হয়ে কাজ করেছিল। তারা মোটা অঙ্কের টাকা তুলেছে। ওই ব্যক্তিদের নামে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এক আমানতকারী বলেন, প্রায় সাতমাস ধরে সংস্থাটি চলছিল। প্রথমদিকে প্রতিশ্রুতি মতো কয়েকজনকে টাকা দিয়েছিল। সেই লোভে অনেকেই বিনিয়োগ করেন। তারা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে আমানতকারীদের প্রভাবিত করত। একটি লিঙ্ক ডাউনলোড করলেই বিনিয়োগের রাস্তা খুলে যেত।
প্রথমদিকে বলা হয়েছিল, বিভিন্ন সংস্থার বিজ্ঞাপন প্রচার করার জন্যই এই অ্যাপটি খোলা হয়েছে। এখন অনেকে টিভিতে বিজ্ঞাপন দেখতে চান না। সেই কারণেই বিভিন্ন সংস্থা প্রচারের জন্য এই মাধ্যমটিকে বেছে নিয়েছে। আরএক আমানতকারী বলেন, শুধু বর্ধমান শহরেই প্রায় ১০ হাজার যুবক-যুবতী ওই অ্যাপে টাকা দিয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য জেলাতেও বহু আমনতকারী রয়েছেন।