


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অনলাইন সাইবার প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার হলেন শিল্পপতি পবন রুইয়া। মঙ্গলবার নিউটাউনের একটি নামী হোটেলের সামনে থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন সাইবার ক্রাইম উইংয়ের অফিসাররা। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে দায়ের হওয়া সাইবার প্রতারণা মামলাতেই তাঁকে ধরা হয়েছে। দেশজুড়ে সংঘটিত সাইবার জালিয়াতির টাকা ওই শিল্পপতির নির্দেশে খোলা বিভিন্ন কাগুজে কোম্পানিতে ঢুকেছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার।
সাইবার ক্রাইম উইং সূত্রের খবর, নিউটাউনের বাসিন্দা স্বপনকুমার মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি বিনিয়োগের টোপ গিলে প্রতারণার শিকার হন। তাঁকে এই বলে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে, বিভিন্ন শেয়ারে বিনিয়োগ করলে বিপুল পরিমাণ টাকা লাভ করা যাবে। এজন্য তাঁকে একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলা হয়। জালিয়াতদের কথামতো সেটি ডাউনলোড করেন তিনি। বাড়তি লাভের আশায় ৯৩ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু এরপর কোনো টাকাই ফেরত পাননি তিনি। প্রতারণার শিকার হয়ে স্বপনকুমার মণ্ডল ২০২৪ সালের এপ্রিলে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ করেন। তার ভিত্তিতে জালিয়াতি, প্রতারণার কেস রুজু করে পুলিশ।
তদন্তে নেমে সাইবার থানার অফিসাররা দেখেন, এই টাকা একাধিক কাগুজে কোম্পানিতে ঢুকেছে। সবগুলিই কারেন্ট অ্যাকাউন্ট। এই কোম্পানিগুলি চলছে সৈয়দ আমির আলি অ্যাভিনিউতে রুইয়া হাউস থেকে। শিল্পপতি পবন রুইয়ার নির্দেশে এই কাগুজে কোম্পানিগুলি খোলা হয়েছে। সেখানে এই প্রতারণার টাকা জমা পড়েছে। পরে তা আবার ক্রিপ্টো কারেন্সিতে বদলে এই টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গিয়েছে। জানা যায়, এনসিআরপি পোর্টালে দেশজুড়ে ১৩৭৯টি সাইবার প্রতারণার অভিযোগের টাকা এই কাগুজে কোম্পানিগুলির নামে খোলা অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। এর মধ্যে রয়েছে এরাজ্যেরই একশোটি অ্যাকাউন্ট!
তদন্তে ১৮৬টি কাগুজে কোম্পানির অস্তিত্ব মেলে। তার মধ্যে ১৪৭টি সংস্থার অফিসের ঠিকানা ছিল এজরা স্ট্রিট। কিন্তু ওই ঠিকানায় কোনো দপ্তরই পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, এই কাগুজে কোম্পানিগুলি নিয়ন্ত্রণ করছেন পবন রুইয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এরপরই পবন রুইয়া এবং তাঁর পরিবারের আরো চার সদস্যের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়। মামলার তদন্তে ওই শিল্পপতি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বেশ কয়েকবার জেরা করা হয়। পবন রুইয়া ও তাঁর পরিবারের অন্যরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁদের সকলকে রক্ষাকবচ দেয় হাইকোর্ট। তাঁদের গ্রেপ্তার করা যাবে না বলেও জানিয়ে দেয়। মঙ্গলবার হাইকোর্ট সেই সুরক্ষা তুলে নিতেই পবন রুইয়াকে নিউটাউনে একটি হোটেলের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যোগ নিয়ে তাঁকে জেরা করেন তদন্তকারীরা।