


নয়াদিল্লি: হিন্দু, বৌদ্ধ ও শিখ থেকে ধর্মান্তরিত হলে তফসিলি জাতির (এসসি) স্বীকৃতি আর মিলবে না। কেবল হিন্দু, শিখ এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাই তফসিলি জাতির স্বীকৃতির অধিকারী। মঙ্গলবার এমনই ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের ২০২৫ সালের রায় বহাল রেখে এদিন বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি মনমোহনের বেঞ্চ সাফ জানিয়েছে, ধর্মান্তরিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তফসিলির জাতির স্বীকৃতি হারাবেন। তথ্যভিজ্ঞ মহলের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের গুরুত্ব সুদূরপ্রসারী। অনেক দলিত হিন্দু মুসলমান বা খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছেন। ধর্মান্তরিত হয়ে তাঁরা খ্রিস্টান বা মুসলিমদের ধর্মীয় আচার পালন করেন। পাশাপাশি তাঁরা তফসিলিদের জন্য বরাদ্দ সুযোগ সুবিধাও নিয়ে থাকেন। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর সেই প্রবণতায় রাশ আসবে।
অন্ধ্রপ্রদেশে আক্কলা রামিরেড্ডি এবং তাঁর সমর্থকদের হাতে আক্রান্ত হয়ে গত বছর এপ্রিলে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন চিন্তাদা আনন্দ নামে এক ব্যক্তি। শারীরিক হেনস্তার পাশাপাশি তাঁকে অবমাননাকর কথা বলা হয়েছে বলে তিনি আদালতকে জানিয়েছিলেন। সিডিউল কাস্ট, সিডিউল ট্রাইব (প্রিভেনশন অব অ্যাট্রোসিটিস) আইনে তিনি নিরাপত্তা চান। একই সঙ্গে এই আইনেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আরজি জানান তিনি। চিন্তাদার দায়ের করা এই মামলার গ্রহণযোগ্যতাকেই চ্যালেঞ্জ করে অভিযুক্তরা। তাঁদের সাফ যুক্তি, এক দশক আগে চিন্তাদা হিন্দু ধর্ম ছেড়ে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তাই তিনি তফসিলি জাতির সুরক্ষার জন্য নির্দিষ্ট আইনের সুবিধা নিতে পারবেন না। চিন্তাদাও স্বীকার করেন, তিনি খ্রিস্টানদের ধর্মীয় আচার পালন করেন। এখন তিনি একজন খ্রিস্টান যাজক।
২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্ট তার রায়ে জানায়, খ্রিস্টান ধর্মে জাতপাত ব্যবস্থা অপরিচিত। তাই কোনো খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী সিডিউল কাস্ট, সিডিউল ট্রাইব (প্রিভেনশন অব অ্যাট্রসিটিস) আইনেকর সুবিধা নিতে পারবেন না। অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান চিন্তাদা। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, অভিযোগকারী আবার ধর্ম বদলে আগের ধর্মে ফিরে যাননি। তাঁকে তাঁর মাদিকা সম্প্রদায়ও আর গ্রহণ করেনি। তাছাড়া ঘটনার দিন রবিবার তিনি খ্রিস্টানদের প্রার্থনা সভায় যাচ্ছিলেন। তাই তিনি তফসিলিদের জন্য বরাদ্দ আইনের সুবিধা পাবেন না।