


নয়াদিল্লি, ২৬ জুন: কিছুদিন আগেই অপারেশন সিন্দুরের বর্ষপূর্তি হয়েছে। তারমধ্যেই আজ, শুক্রবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চলা সেই অভিযানে শহিদ ৬ জওয়ানের নাম প্রকাশ করল ভারত সরকার। জানানো হয়েছে, রাজধানীতে থাকা ন্যাশনাল ওয়্যার মেমোরিয়ালের থ্রিডি ওয়ালে সেই বীর জওয়ানদের নাম স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করা থাকবে। অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন এবং তার পরেও একাধিকবার সাংবাদিক বৈঠক করেছেন ভারতীয় সেনা আধিকারিক এবং দেশের বিদেশ সচিব। কিন্তু কোনও জায়গাতেই শহিদ জওয়ানের বিষয়ে কোনওরকম বক্তব্য রাখা হয়নি। এমনকী সাংবাদিক এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারাও এই প্রশ্ন একাধিকবার কেন্দ্রীয় সরকারের সামনে রাখলেও মেলেনি সদুত্তর। অবশেষে আজ শহিদ জওয়ানদের নাম প্রকাশ্যে আনল ভারত সরকার। জানা গিয়েছে, এই ৬ জনের মধ্যে ৫ জন ভারতীয় জওয়ান এবং একজন বায়ুসেনার সার্জেন্ট রয়েছেন। ইতিমধ্যেই তাঁদের নামের তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন- সুবেদার মেজর পবন কুমার, রাইফেলম্যান সুনীল কুমার, ল্যান্স নায়েক দীনেশ কুমার, অগ্নিবীর মুরলী নায়েক, হাবিলদার সুনীল কুমার সিং এবং ভারতীয় বায়ুসেনার সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমার। ওয়েবসাইটে তাঁদের শহিদ হওয়ার দিনও প্রকাশ করা হয়েছে। দুজনকে মরণোত্তর বীরের সম্মান প্রদান করা হয়েছে। রাইফেলম্যান সুনীল কুমারকে মরণোত্তর বীর চক্র সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমারকে মরণোত্তর বায়ু সেনা মেডেলে সম্মানিত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে বৈসরণ ভ্যালিতে আচমকাই জঙ্গি হামলা চালানো হয়। তাতে মৃত্যু হয় ২৬ জন নিরীহ পর্যটকের। প্রত্যেকের ধর্মীয় পরিচয় জিজ্ঞেস করার পর তাঁদের গুলি করে জঙ্গিরা। পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন লস্কর গোষ্ঠী এই হামলার নেপথ্যে ছিল বলে পরে জানা যায়। এরই পাল্টা হিসেবে গত বছরের ৬মে গভীর রাতে পাকিস্তানের মোট ৯টি জায়গায় প্রত্যাঘাত করে ভারতীয় বায়ু সেনা। নাম দেওয়া হয় অপারেশন সিন্দুর। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ৯টি জঙ্গিঘাঁটি। পাকিস্তানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তছনছ হয়ে যায় একাধিক পাক বায়ুসেনার ঘাঁটি। নিহত হয় শতাধিক জঙ্গি। মৃত্যু হয় বহু পাক সেনারও। দুই দেশের মধ্যে এই সংঘাত চলে গত বছরের ১০ মে পর্যন্ত।