


সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: তৃণমূল কংগ্রেসের কাছ থেকে সুযোগ সুবিধা নেওয়ার পরেও যারা বিজেপিকে তলে তলে সমর্থন করছেন, তাঁদের উপর নজরদারি শুরু হয়েছে। গোপনে সহযোগী সংস্থা এই সমস্ত ‘বিভীষণ’দের চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু করেছে। ভোটের পর তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলের এক নেতা বলেন, বিভিন্ন সময় তৃণমূলের কাছ থেকে সুযোগ সুবিধা নেওয়ার পরেও কেউ কেউ বিজেপিকে তলে তলে সমর্থন করছেন, কেউ কেউ আবার ওদের কর্মসূচিতেও যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে মহিলারাও রয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় তাঁদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। ৪ মে ফল প্রকাশের পর তাঁরা যাতে ফের সুবিধা নিতে না পারেন তার জন্য দল সতর্ক রয়েছে। দু’নৌকায় পা দিয়ে চলা লোকজনকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তারজন্য বিরোধীদের মিছিল ও সভায় নজরদারি শুরু হয়েছে।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বেশকিছু পরিবার গোপনে অন্য দলের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। দলের কাছে এমনই খবর আসার পর নেতৃত্ব খোঁজখবর নেওয়া শুরু করে। কোন গ্রাম থেকে কতজন বিজেপি বা অন্য দলের সভায় যাচ্ছেন, তার হিসাব রাখছে সহযোগী সংস্থা। অনেকে আবার উপরে উপরে তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও গোপনে বিরোধীদের হয়ে কাজ করছেন। যাঁরা মনে করছেন, গাছেরও খাবেন তলারও কুড়াবেন তাঁদের এবার উচিত ‘শিক্ষা’ দেওয়া হবে। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কন্যাশ্রী, সবুজসাথী, লক্ষীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, কৃষকবন্ধুর মতো প্রকল্প সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই চালু করেছেন। গরিব পরিবারে লোকজনও এখন নামী হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা করার সুযোগ পাচ্ছেন। লক্ষীর ভাণ্ডারের জন্য মহিলারা আত্মনির্ভর হয়ে উঠেছেন। কন্যাশ্রী বা রূপশ্রীর মতো প্রকল্পেও বহু পরিবার উপকৃত হয়েছেন। এছাড়া তৃণমূলের পক্ষ থেকে অনেককে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে। এত সুবিধা পাওয়ার পরেও কেউ কেউ বিরোধীদের সভায়, মিছিলে যাচ্ছেন। তাঁরা ভাবছেন, কেউ জানতে বা বুঝতে পারবে না। তারপর আবার আমাদের সঙ্গে সুযোগ বুঝে গা ঘেঁষাঘেঁষি করবে। এবার আর সেই সুযোগ দল দেবে না। দলের ছত্রছায়ায় থাকার পরও যাঁরা অন্য দলের হয়ে কাজ করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তৃণমূলের দাবি, তারা প্রথম দফার ভোটেই সেঞ্চুরি পার করেছে। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তারাই ফের ক্ষমতায় আসছে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই ‘সুবিধাবাদীদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। এবার তা বাস্তবায়িত করা হবে। তার মধ্যে কিছু পঞ্চায়েত সদস্যও রয়েছেন।
শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জামালপুরের সভা থেকে বলেন, ৪ মে নরেন্দ্র মোদিকে বর্ধমানের সীতাভোগ খাওয়াব। প্রথম দফাতেই আমরা এগিয়ে গিয়েছি। যদিও তৃণমূল বলছে, বিজেপির দিল্লির নেতারা হতাশ কর্মীদের চাঙ্গা করার চেষ্টা করছেন। উত্তরবঙ্গেও তাদের ধস নামবে। এই পরিস্থিতিতেও যাঁরা তৃণমূলের ছত্রছায়ায় থেকে বিজেপিকে মদত দিচ্ছেন তাঁরা নিজেরাই নিজেদের বিপাকে ফেলছেন।