


নয়াদিল্লি: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই ছিল মতপার্থক্য। অভিযোগ, তিন সদস্যের কমিশনে দু’জনের মত উপেক্ষা করে একাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। বুধবার সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ তাদের রিপোর্টে এই দাবি করেছে। বিষয়টা প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধী নেতারা একযোগে জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেপ্তারির দাবি তুলেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যে নতুন করে নির্বাচন করার দাবিও উঠছে।
পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘আমার প্রথম দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেপ্তার করতে হবে। তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা শুরু করতে হবে।’ তাঁর কথায়, ‘বাংলায় নির্বাচনের সাত-আট মাস আগেই এই নিয়ে সরব হয়েছিলাম। আমরাই প্রথম বলেছিলাম, ভোটাধিকার জোর করে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, যাতে আমাদের হারানো যায়।’ জ্ঞানেশ কুমারের পাশাপাশি কমিশনের এই কাজগুলি যারা সমর্থন করেছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সওয়াল করেছেন মমতা। তাঁর কটাক্ষ, ‘আপনারা কি বিজেপির জন্য দায়বদ্ধ?’ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আক্ষেপ, কয়েকজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির কারণে কোটি কোটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, ‘অবশেষে বেড়াল ঝুলি থেকে বেরিয়েছে। প্রায় ৩০ লক্ষ লোককে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। যাঁরা ভোট দিতে পারেননি, তাঁদের অভিশাপ লেগেছে। কারও চোখের জল বৃথা যাবে না।’
কংগ্রেস এই বিতর্ককে ‘জ্ঞানেশগেট’ বলে কটাক্ষ করেছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, ‘বিজেপি, আরএসএস এবং নির্বাচন কমিশন যারা এই ভোট চুরি সংগঠিত করেছে, তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার কাজ করেছে।’ কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর দাবি, ‘জ্ঞানেশ কুমার যদি নির্বাচনে কারচুপির বিষয়ে জানতেন এবং তা হতে দিয়ে থাকেন, তাহলে তা দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং রাষ্ট্রদ্রোহের কাজ।’ আপ সুপ্রিমো কেজরিওয়ালও জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেপ্তারির দাবিতে সরব হয়েছেন। পুনরায় নির্বাচন একান্ত প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের প্রশ্ন, নির্বাচন কমিশন ‘কার হয়ে’ কাজ করছে। সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাসের কটাক্ষ, জ্ঞানেশ কুমারের অধীনে নির্বাচন কমিশন ‘একজনের একনায়কতন্ত্রে’ পরিণত হয়েছে। রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিবালও জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর কাজের পিছনে কারা রয়েছে, তা তদন্ত করতে এফআইআর দায়েরের দাবিও করেন তিনি। জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্ত করে জেলে পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব থ্যাকারেও। তাঁর অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার ‘গণতন্ত্রকে হত্যা’ করেছেন। মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে শেষ বিধানসভা নির্বাচন বাতিল করে ব্যালট পেপারে নতুন করে ভোট নেওয়ারও দাবি জানান উদ্ধব। একইভাবে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ করে দুই রাজ্যেই নতুন করে নির্বাচন করার দাবি জানিয়েছেন রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী যাদব। পাটনায় এক সাংবাদিক বৈঠকে তেজস্বী বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমারের জন্যই বিজেপি বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং অন্যান্য রাজ্যে নির্বাচনে জিতেছে।’ শারদ পাওয়ারের এনসিপি দলের নেতা সুপ্রিয়া সুলে বলেছেন, যদি একটা ব্যবস্থাই ধ্বংস হতে বসে, তবে দেশের মধ্যে কাকে আমরা বিশ্বাস করব। এনসি প্রধান ওমর আবদুল্লা বলেছেন, অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। নাহলে নির্বাচন থেকে জনগণের আস্থা উঠে যাবে। জ্ঞানেশ কুমারকে দেশের ‘শত্রু’ বলে কটাক্ষ করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দিপকে।