


সংবাদদাতা, বজবজ: মহেশতলা বিধানসভা কেন্দ্রের ২৯৭টির মধ্যে ২০০টি ভোটকেন্দ্র মহিলা পরিচালিত করার ‘টার্গেট’ বেঁধে দিয়েছে কমিশন। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় মহিলা পরিচালিত ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা এই কেন্দ্রেই সর্বাধিক বলে দাবি ঠাকুরপকুর মহেশতলা ব্লক প্রশাসনের। জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও জেলার মধ্যে মহেশতলা কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি মহিলা পরিচালিত ভোটকেন্দ্র হয়েছিল। সেবার ২৯২টির মধ্যে ৯০টি ছিল মহিলা পরিচালিত। সেই অভিজ্ঞতা সামনে রেখে এবার তাই লক্ষ্যমাত্রা আরও বৃদ্ধি করেছে কমিশন। ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কেবল মহিলারাই পরিচালানা করবেন, এরকম ১০০টি ভোটকেন্দ্র আপাতত চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রগুলি সরেজমিনে দেখে এসেছেন আধিকারিকরা। বাকি আরও ১০০টি ভোটকেন্দ্র নির্দিষ্ট করার কাজ চলছে। যদিও শেষ পর্যন্ত আরও ১০০টি মহিলা পরিচালিত ভোটগ্রহণ কেন্দ্র করা যাবে কি না, সংশয় রয়েছে প্রশাসনের অন্দরে। তবুও কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী জোর তৎপরতা চালাচ্ছে প্রশাসন। ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ‘মহিলাদের জন্য ভোটকেন্দ্রে যে ধরনের পরিকাঠামো দরকার, তা সব জায়গায় নেই। এটা একটা বড় সমস্যা। কিছু ক্ষেত্রে নতুনভাবে পরিকাঠামো তৈরি না করা গেলে মহিলাদের সেসব ভোটকেন্দ্রে পাঠানো যাবে না। তাই সঠিকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে সার্বিক পরিস্থিতি, যাতে ভোট পরিচালনার সময় ওইসব কেন্দ্রে কাজ করতে গিয়ে মহিলা ভোটকর্মীদের কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়।’
সর্বাধিক মহিলা পরিচালিত ভোটকেন্দ্র করার জন্য মহেশতলা বিধানসভাকে বেছে নেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক দুলাল দাস। বিজেপির মহেশতলা বিধানসভা কেন্দ্রের আহ্বায়ক অসিত বাগ বলেন, ‘কমিশনের এ ধরনের প্রয়াস প্রশংসনীয় । তবে এ ব্যাপারে আমাদের আলাদা বক্তব্য আছে। তা হল, মহিলা পরিচালিত ভোটকেন্দ্র করে সেখানে দু’জন লাঠিধারী মহিলা হোমগার্ড দিয়ে দায় সারলে হবে না। কমিশনের কাছে এ ব্যাপারে লিখিত দাবি করছি যে, প্রতিটি মহিলা পরিচালিত ভোটকেন্দ্রের ভিতরে ও বাইরে বেশি সংখ্যায় মহিলা প্যারা মিলিটারি ফোর্স দিতে হবে। কারণ, মহেশতলার একাধিক বুথ উত্তেজনাপূর্ণ।’ সিপিএমের জেলা সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য প্রভাত চৌধুরী বলেন, ‘এ বিষয়ে আগে কমিশন কিছু জানাক। তার আগে কথা বলতে চাইছি না।’ কংগ্রেস দলের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা (এক)-এর সাধারণ সম্পাদক গোপাল মণ্ডল বলেন, ‘প্রদেশ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পর মন্তব্য করব।’