


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় টিকিট পাবেন না বিজেপির অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন বিধায়ক। বৃহস্পতিবার দলের শীর্ষ সূত্রে এমনই খবর জানা গিয়েছে। রাজনৈতিক সূত্রে দাবি, কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আবার কাউকে গত পাঁচ বছরে সেভাবে এলাকাতেই পাননি স্থানীয় মানুষজন। কারও কারও বিরুদ্ধে নিতান্ত ব্যক্তিগত কারণে ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে বেসরকারি একাধিক সমীক্ষক সংস্থার রিপোর্ট খতিয়ে দেখে এহেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পথে হাঁটতে চলেছে রাজ্য বিজেপি। জানা যাচ্ছে, বাংলায় এবারের নির্বাচনে প্রতি ১০০ জন প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৪০ জন আদিপন্থী নেতা-কর্মীকে টিকিট দিতে চলেছে গেরুয়া শিবির। অর্থাৎ, যাঁরা প্রকৃত পক্ষেই ‘কাজের লোক’ এবং এলাকায় ভাবমূর্তি নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।
বিজেপি সূত্রে খবর, এইসব আদি কর্মীরা হয়তো সেই অর্থে ‘সেলিব্রিটি’ নন। কিন্তু দলের নীচুতলার প্রত্যেক নেতা-কর্মী তাঁদের চেনেন। বিপদে পাশে পান। এমন নেতা-কর্মীদের বড়ো অংশকেই ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করতে চলেছে বিজেপি। জানা যাচ্ছে, রাজ্য বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে ইতিমধ্যেই দিল্লিতে জমা পড়েছে প্রায় দেড় থেকে দু’হাজার নাম। এর অর্থ, এক্ষেত্রে কার্যত মানাই হয়নি রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে সর্বাধিক তিন জন করে প্রার্থীর নাম পাঠানোর নির্দেশিকা। এব্যাপারে রাজ্য বিজেপিকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচনি পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদব।
বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার সরকারি বাসভবনে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা নিয়ে একপ্রস্থ বৈঠক করেন বঙ্গ বিজেপির নেতারা। সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, প্রাক্তন সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের সঙ্গে প্রার্থী তালিকা নিয়ে আলোচনা হয়। পরে সেই বৈঠকে যোগ দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন রাতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনে বাংলা এবং কেরলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে বৈঠকে বসে বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচনি কমিটি। বৃহস্পতিবার রাতে বিজেপির শীর্ষ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, প্রথম দফায় বাংলার ১৫০টি আসনের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। যদিও কবে তা প্রকাশ করা হবে, তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে। পদ্মশিবিরের অন্দরের খবর, একপক্ষ চাইছে, কাল, শনিবার কলকাতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেড সমাবেশের মঞ্চ থেকেই রাজ্য বিধানসভা ভোটে আংশিক দলীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হোক। তবে দলের একটি বড়ো অংশই মনে করছে, নির্বাচনি নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরেই তালিকা প্রকাশ হওয়া উচিত।