


নয়াদিল্লি: আরব সাগরে টহলদারির সময় ভারতের রণতরীতে ধাক্কা মারল পাকিস্তানের যুদ্ধজাহাজ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে। পাক নৌসেনার এই বেপরোয়া কাণ্ডে চরম ক্ষুব্ধ ভারত। বুধবার পাকিস্তান দূতাবাসের চার্জ দ্য’অ্যাফেয়র (দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক) সাদ আহমেদ ওয়ারিচকে ডেকে পাঠায় বিদেশ মন্ত্রক। দিল্লির তরফে পাক সেনার এই আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘অপেশাদার’ বলে উল্লেখ কড়া প্রতিবাদ করা হয়ছে। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজের এই আচরণে দুই দেশের মধ্যে ১৯৯১ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন হয়েছে। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছিল, সামরিক মহড়া, রণকৌশলগত অনুশীলন, সেনার যাতায়াতের বিষয়ে ভারত ও পাকিস্তান একে অপরকে নোটিস দিয়ে জানাবে। কিন্তু এক্ষেত্রে সে সব কিছুই মানেনি পাকিস্তান। যদিও বিষয়টি নিয়ে ইসলামাবাদের তরফে এখনও কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তর আরব সাগরে ওমান উপকূল থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দূরে এই ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিয়ম মেনেই রুটিন টহল দিচ্ছিল ভারতীয় যুদ্ধজাহাজটি। সেই সময় পাক নৌসেনার হুনেইন ক্লাসের করভেট গোত্রের ওই যুদ্ধজাহাজটি বিপজ্জনকভাবে ভারতীয় রণতরীর দিকে কার্যত ‘তেড়ে’ আসে। ভারতীয় জাহাজটিকে ধাক্কা মেরে দ্রুতগতিতে বেরিয়ে যায় সেটি। তবে, ভারতীয় নৌসেনা আগেভাগেই সতর্ক হয়ে যাওয়ায় বড়ো কোনো বিপদ ঘটেনি। ওই সূত্রটি জানিয়েছে, ভারতীয় যুদ্ধজাহাজটি অক্ষতই রয়েছে। ঘটনার পর দুটি জাহাজই অন্যদিকে সরে যায়। সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণেই এমন ঘটেছে পাক সেনার একটি সূত্র দাবি করেছে। তবে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ২০১১ সালের জুনে পাক নৌসেনার জাহাজ বাবরের সঙ্গে ভারতীয় নৌসেনা আইএনএস গোদাবরীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ১৫ বছরের পর ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল।