


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য উন্নয়ন খাতে বাৎসরিক ৬০ লক্ষ টাকা খরচের পরিকল্পনা নিল পানিহাটি পুরসভা। সোমবার বাজেট মিটিংয়ে এই সিদ্ধান্ত পাশ হয়েছে। পুরসভা সূত্রে দাবি, আগে কখনও এত বিপুল টাকা ওয়ার্ড ভিত্তিক খরচ হয়নি। কোন খাতে কত টাকা খরচ হবে, তারও একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলাররা প্রয়োজন ও গুরুত্ব বুঝে উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা করে পুরসভায় জমা দেবেন। বোর্ড মিটিংয়ে তা পাশ করিয়ে দ্রুত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পানিহাটি পুরসভার বেহাল পরিকাঠামো ও পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের অন্ত নেই। নিকাশি, জঞ্জাল ও রাস্তাঘাট নিয়ে মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। এই পরিস্থিতিতে মাস কয়েক আগে পুরসভায় চেয়ারম্যান বদল হয়েছে। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে লাগোয়া পুরসভার জায়গা স্থানীয় পঞ্চায়েতের সঙ্গে বদল করা হয়েছে। সেখানে নতুন ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরির পরিকল্পনাও হয়েছে। কিন্তু ওই কাজ সম্পূর্ণ হতে আরও সময় লাগবে। ফলে এই বর্ষায় জঞ্জাল সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনও রাস্তা নেই শহরবাসীর। জল,কাদা ও আবর্জনায় শহরের বিভিন্ন এলাকা লণ্ডভণ্ড।
এই পরিস্থিতিতে চলতি মাসের শেষে পুরসভার সিআইসি বৈঠকে বাৎসরিক বাজেট পাশ হয়। সোমবার বোর্ড মিটিংয়েও তা সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের ৩৫টি ওয়ার্ডের জন্য বাৎসরিক ৬০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হবে। আগামী বছর ৩১ মার্চের মধ্যে ওই টাকায় কাজ সম্পূর্ণ করা হবে। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ওই টাকায় রাস্তা, ড্রেন, জলের পাইপলাইন, আলো ও জঞ্জাল সহ নানা খাতে কাজ করা যাবে। এছাড়া রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প থেকেও প্রতিটি ওয়ার্ডে কাজ হবে।
তবে পুরসভার নিজস্ব আয় কার্যত তলানিতে ঠেকেছে। সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সম্পত্তি করের বকেয়া আদায়ে আরও জোর দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, হোর্ডিং থেকে পুরসভার নামমাত্র আয় হয়। অথচ বিটি রোড, সোদপুর-মধ্যমগ্রাম রোড, গঙ্গা লাগোয়া রাস্তা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোণে বিজ্ঞাপনের হোর্ডিংয়ের ছড়াছড়ি। এদিকেও এবার বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে বলেন, ‘পুরসভায় আমরা নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছি। বছরে প্রতিটি ওয়ার্ডে ৬০ লক্ষ টাকার কাজের পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পগুলির কাজ হবে।’