


লখনউ: ২০২৫ মেগা নিলামে ঋষভ পন্থের জন্য ২৭ কোটি টাকা খরচ করেছিল লখনউ সুপার জায়ান্টস। তারকা বাঁ হাতি ব্যাটারকে ক্যাপ্টেনও করা হয়। আশা ছিল, দলকে প্রথমবার আইপিএল জেতাবেন তিনি। কিন্তু খেতাবি লড়াইয়ে পৌঁছানো দূর-অস্ত, প্লে-অফেই কোয়ালিফাই করতে পারেনি লখনউ। তাই এবার ঋষভের উপর যে বাড়তি চাপ থাকবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু তাতে কুঁকড়ে যাওয়ার পাত্র নন মৃত্যুঞ্জয়ী কিপার ব্যাটসম্যান। তাঁর সোজাসাপ্টা জবাব, ‘ইদানীং দেখছি, প্রত্যাশার মুখে অনেকেই বাড়তি চাপ নিয়ে ফেলে। তাতে সেরা পারফরম্যান্স মেলে ধরা যায় না। বরং খেলাটা উপভোগ করা জরুরি। ছোটোবেলায় যখন হাতে ব্যাট তুলেছিলাম, কেউ চাপ দেয়নি। ভালোবাসা থেকেই তুলেছিলাম। এখনও সেটাই করে যাব।’ একটু থেমে তাঁর সংযোজন, ‘আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টে চাপ থাকবেই। তবে সেটার প্রভাব ড্রেসিং-রুমে পড়তে দেওয়া যাবে না। আমার টিমের প্রত্যেকেই হাসিখুশি থাকতে পছন্দ করে।’
২০২২ সালে আইপিএলে আবির্ভাবের পর থেকেই লখনউয়ের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট। গতবার তো তারা শেষ করেছিল সাত নম্বরে। তবুও ক্যাপ্টেন পন্থের উপর আস্থা রেখেছে এলএসজি ম্যানেজমেন্ট। তার মর্যাদা রেখে দলকে সাফল্য এনে দিতে প্রত্যয়ী পন্থ। তিনি বলেন, ‘আমাদের স্কোয়াড বেশ শক্তিশালী। ব্যক্তিগতভবে আমিও মানসিক এবং শারীরিকভাবে বেশ ভালো জায়গায় আছি। তবে ক্রিকেটে প্রতিনিয়ত উন্নতি প্রয়োজন। সিনিয়রদের থেকেও এমন পরামর্শ পেয়েছি। যখন তোমার ভালো সময় চলছে, তখন আরো বেশি পরিশ্রম কর। সেটাই করছি। পাশাপাশি ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াটাও জরুরি।’
গত মরশুমে লখনউয়ের বোলিংয়ে দুর্বলতা চোখে পড়েছিল। তাই এবার অভিজ্ঞ ভরত অরুণকে বোলিং কোচ নিযুক্ত করেছে তারা। এই প্রসঙ্গে পন্থের মন্তব্য, ‘ভরত স্যারের সঙ্গে জাতীয় দলে কাজ করেছি। ওঁর উপর অগাধ বিশ্বাস আছে। পেসারদের নিয়ে তিনি আলাদা ক্যাম্পেরও আয়োজন করেছিলেন। আমি নিশ্চিত, স্যারের পরামর্শে সমৃদ্ধ হবে টিম।’ উল্লেখ্য, বোলিংয়ে উন্নতি ঘটাতে মেগা নিলামে মহম্মদ সামিকে নিয়েছে লখনউ। তাঁর অভিজ্ঞতা দলের সম্পদ। তাছাড়া সম্প্রতি বাংলার হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্স করেন সামি। সেই ফর্ম আইপিএলেও ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর তিনি। এছাড়া আভেশ খান, প্রিন্স যাদব বা স্পিডস্টার মায়াঙ্ক যাদবের মতো প্রতিশ্রতিমান পেসাররাও ভরসা জোগাতে তৈরি। এলএসজি’র ব্যাটিং বিভাগেও ফায়ার-পাওয়ারের অভাব নেই। পন্থের পাশাপাশি আইডেন মার্করাম, মিচেল মার্শ, নিকোলাস পুরান, আব্দুল সামাদরা ঝড় তুলতে সক্ষম।