


নয়াদিল্লি, ৬ অক্টোবর: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আজ ফের উত্তপ্ত রাজধানী। এবার সেই আঁচ সংসদ চত্বরে। ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ লেখা ব্যানার হাতে নিয়ে স্লোগান তুলতে থাকেন বিরোধী সাংসদরা। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শামিল হন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সাগরিকা ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদবরা। এছাড়াও সেখানে ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ আরও অনেকেই। এরপরে তাঁরা সংসদ ভবনের মকর দ্বার থেকে দিল্লির নির্বাচন কমিশন দপ্তর পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল করতে গেলে পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। এরপরেই নীতি আয়োগের অফিসের সামনে রাস্তায় ধরনায় বসে পড়েন অভিষেক-মহুয়ারা। জাতীয় পতাকা হাতে ব্যারিকেডের উপরে উঠে যান রাহুল গান্ধী এবং আকাশবাণী অফিস চত্বর থেকেই তিনি বলেন,‘নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, মোহন ভাগবত, জ্ঞানেশ কুমাররা এই দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। আর বিজেপি কী বলল, তাতে আমার কোনো আগ্রহ নেই। আমি ভারতের গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য এখানে দাঁড়িয়েছি। আমরা তাঁদের ধ্বংস করে দেব।’
সাংসদ অখিলেশ যাদব বলেন, ‘এটা নতুন নয়। নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির দলীয় কার্যালয় বানিয়ে ফেলা উচিত। ২০১৭-তে বেইমানি করেছে, ২০২২-এ বেইমানি করেছে, ২০২৪-এ বেইমানি করেছে। বাংলার নির্বাচনে যা করেছেন, কে দেখতে পাননি?’ ইউপির উপনির্বাচনেও কমিশনের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ করেন অখিলেশ। সিপিআই-র জেনারেল সেক্রেটারি ডি রাজা বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমারকে যেতেই হবে। তাঁকে পদত্যাগ করতেই হবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরাট ক্ষোভ, প্রতিবাদ করছেন সকলে।’ পাল্টা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বিরোধীদের কটাক্ষ করে বলেন,‘যে ব্যবস্থার উপর আপনারা প্রশ্ন তুলছেন, আপনারাও সেই প্রক্রিয়াতেই কেরালায় জিতেছেন। তাহলে সেটাও কি অবৈধ? আপনারা কর্নাটকে জিতেছেন, সেটাও কি অবৈধ? হারলেই কি অবৈধ? রাহুল গান্ধী উত্তর দিন। হারলে স্বীকার করতে শিখুন। গণতন্ত্রের অপমান করবেন না।’
আজ, মঙ্গলবার পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এদিন সকাল ১১টায় সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর পর্যন্ত মিছিল শুরু করেন বিরোধী দলের সাংসদরা। তবে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে আকাশবাণী অফিসের সামনে তাঁদের মিছিল ব্যারিকেড দিয়ে আটকানো হলে পরিস্থিতি আরও বেশি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একদিকে বিশাল পুলিশ বাহিনী! অন্যদিকে বিরোধী দলের সাংসদরা। সেখানেই ধরনায় বসেছেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গেরা। কেউ কেউ আবার সেই ব্যারিকেডের উপরে উঠেও স্লোগান দিতে থাকেন। আছেন অখিলেশ যাদব, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে কড়া বার্তা জ্ঞানেশ কুমারকে।