


নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ব্রিগেডে যাওয়ার জন্য শনিবার দুর্গাপুর থেকে হাওড়া স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করে রেল কর্তৃপক্ষ। কর্মীদের নিয়ে যাওয়ার জন্য আস্ত একটা ট্রেনের ব্যবস্থা হওয়ায় বিজেপির নেতাদের বুক ফুলিয়ে ঘুরতে দেখা যায়। স্টেশন চত্বর, প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে গেরুয়া শিবিরের উচ্ছ্বাস দেখলেন নিত্যযাত্রীরা। অথচ যাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপুর থেকে হাওড়া একটি এক্সপ্রেস ট্রেনের দাবি জানিয়ে আসছেন। রেল তাঁদের দাবি কর্ণপাত করেনি। অথচ প্রধানমন্ত্রীর সভার জন্য স্পেশাল ট্রেন দেওয়া হয়েছে। তা নিয়ে সাধারণ যাত্রী নিত্যযাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শুধু দুর্গাপুর-হাওড়া নয়, রেল শহর চিত্তরঞ্জন থেকেও হাওড়ার সরাসরি ট্রেনের দাবি বহুদিনের। সেই দাবিও মেনে নেয়নি রেল মন্ত্রক। অথচ বরাকর থেকে বিজেপি সমর্থকদের নিয়ে যাওয়ার জন্য স্পেশাল ট্রেন দেওয়া হয়েছিল। মানুষ ক্ষোভে ফুঁসলেও বিজেপি নেতাদের দাবি, এটা ট্রেনের ‘ট্রায়াল রান’।
দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর দুর্গাপুর। এই স্টেশন দিয়ে শুধু দুর্গাপুরের নয়, পার্শ্ববর্তী বাঁকুড়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ যাতায়াত করে। দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপুর থেকে হাওড়া একটি ট্রেনের দাবি জানিয়ে আসছেন যাত্রীরা। নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ, হাওড়াগামী ট্রেনগুলি কোনোটি ছাড়ে ধানবাদ থেকে, কোনটি আসানসোল বা সিউড়ি থেকে। তাতে দুর্গাপুরের যাত্রীদের বসার সিট পেতে সমস্যা হয়। তাই অফিস টাইমে এখান থেকে ট্রেন চালানোর দাবি দীর্ঘদিনের। অফিস টাইমে এই রুটের ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে সেই দাবি এতদিন উড়িয়ে দিয়েছে রেল। শনিবার সেই রুটেই স্পেশাল ট্রেন চলতে দেখলেন নিত্যযাত্রীরা। দলের বিধায়ক থেকে নেতাদের উচ্ছ্বাস দেখে বহু নিত্যযাত্রীই এদিন আক্ষেপ করেন।
নিত্যযাত্রী দেবাশিস দাস বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপুর থেকে হাওড়া ট্রেনের দাবি জানিয়ে আসছি। আমাদের বলা হত, এই সময়ে লাইনের ব্যস্ততার জন্য বাড়তি ট্রেন দেওয়া সম্ভব নয়। এদিন তো সেই সময়েই ট্রেন চলল। আমি ফের রেলমন্ত্রীকে চিঠি লিখে ট্রেন চালানোর দাবি জানিয়েছি। উল্লেখ্য, এদিন সকাল ৬টায় স্পেশাল ট্রেনটি হাওড়া অভিমুখে যাওয়ার কথা ছিল। তা ছাড়ে প্রায় ৭টা নাগাদ।
শিল্পাঞ্চলের আরও এক বড় শহর চিত্তরঞ্জন। এখান থেকে রূপনারায়ণপুর সীতারামপুর হয়ে হাওড়া পর্যন্ত একটি ট্রেন দেওয়ার দাবিও দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন যাত্রীরা। শুক্রবার রাতে বরাকর ও আসানসোল থেকে দু’টি ব্রিগেড স্পেশাল ট্রেন চলে। বিজেপি কর্মীরা একাধিকবার চেন টেনে ট্রেনটি থামান বলে অভিযোগ। বিজেপির জেলা সহ সভাপতি চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দুর্গাপুরের মানুষ দু’টি আসনেই বিজেপি প্রার্থীকে জয়লাভ করিয়ে দিক। এক মাসের মধ্যে আমরা দুর্গাপুর-হাওড়া ট্রেনের ব্যবস্থা করব। এদিন তো তার ট্রায়াল রান হয়েই গেল। তৃণমূলের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে বিজেপি কোনওদিন চিন্তা করেনি। মানুষ ভোটবাক্সে এর জবাব দেবে।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাজি বলেন, অফিস টাইমে লাইনের ব্যস্ততার জন্য অনেক সময়ে চাহিদা পূরণ করা যায় না। আমরা যাত্রীদের দাবিদাওয়া খতিয়ে দেখব।