


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভুয়ো নথি জমা দিয়ে পাসপোর্টের আবেদন করায় আটকে দেওয়া হয়েছিল ছাড়পত্র। সেই নথি যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, আবেদনকারীরা বাংলাদেশি। পুলিস ভেরিফিকেশনে আটকে গেলেও নিয়ম ভেঙে এনওসি দিয়ে ভারতীয় পাসপোর্ট পেতে সাহায্য করার অভিযোগ উঠেছে বারাসত পুলিস জেলার দুই পুলিস কর্মীর বিরুদ্ধে। বিভাগীয় তদন্তে অভিযুক্তদের দোষ প্রমাণ হওয়ায় বরখাস্ত করা হয়েছে ডিআইবি’র দুই কর্মীকে। এর মধ্যে একজন হলেন এএসআই, অন্যজন কনস্টেবল। বরখাস্ত হওয়ায় তাঁরা ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালের (স্যাট) দ্বারস্থ হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিসের কোনও কর্তাই মন্তব্য করতে চাননি।
ভুয়ো নথি জমা দিয়ে পাসপোর্টের জন্য আবেদনের বিষয়টি সামনে আসার পর জানা যায়, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা জাল প্যান, আধার, ভোটার কার্ড সহ বিভিন্ন নথি তৈরি করে ভারতীয় পাসপোর্ট বানাচ্ছে। এমনকী, পাক নাগরিকদের কেউ কেউ বনগাঁ-বারাসত করিডর দিয়ে রাজ্যে ঢুকে ভারতীয় পাসপোর্ট বের করে ফেলেছে। নথি যাচাইয়ের প্রশ্নে পাসপোর্ট দপ্তর ও পুলিসের একাংশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এরপরই পাসপোর্ট দপ্তরের কাছে জমা পড়া আবেদনকারীর আধার, প্যান, ভোটার কার্ড ও শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যাচাইয়ের জন্য পাঠাচ্ছে পুলিস। এখন সেই রিপোর্ট আসার পরই মিলছে এনওসি। পাশাপাশি বছরখানেক আগে পাসপোর্ট ইস্যু হলেও এখনও এনওসি আসেনি, অথচ পোর্টালে তথ্য আপলোড হয়ে গিয়েছে, সেই সব ফাইল খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য পুলিসের কর্তারা তা করতে গিয়ে দেখেন, বারাসত ডিআইবি থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২৪টি ফাইলকে সন্দেহজনক বলে মনে হয়। সেগুলির মধ্যে ১৬টি ফাইলে এনওসি নেই। তার কপি (চালান) তাঁদের হাতে আসে। পোর্টাল ঘাঁটতে গিয়ে আধিকারিকদের নজরে আসে, এনওসি ছাড়াই এই ১৬টি ফাইল আপলোড করা হয়েছে এবং আবেদনকারীরা পাসপোর্ট হাতে পেয়েও গিয়েছেন।
এরপর এ নিয়ে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান শুরু হয়। দেখা যায়, যে ফাইলগুলি আটকে দেওয়া হয়েছিল, তার আধার, প্যান, ভোটার কার্ডের নম্বর একই। খালি নাম বদলে গিয়েছে। এর থেকেই স্পষ্ট যে, সেগুলি জাল। এই পাসপোর্টগুলি ইস্যু করা হয়েছে বারাসত, দত্তপুকুরের ঠিকানায়। বাস্তবে যার কোনও অস্তিত্ব নেই। পুলিসের কর্তারা জানতে পারেন, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা ভুয়ো নথি দিয়ে এইসব পাসপোর্ট তৈরি করেছে। নথি আপলোডের দায়িত্বে কে ছিলেন, তা দেখতে গিয়ে এক এএসআই ও কনস্টেবলের ভূমিকা সামনে আসে। তারপর তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। দু’জনেই দাবি করেন, তাঁরা আপলোড করেননি। এই দায়িত্বে চারজন আছেন। তাঁরা দু’জন শুধু ঠিকানা যাচাই করেন। বিভাগীয় তদন্তে দেখা যায়, ওই দু’জনেই এই ঘটনায় জড়িত। এরপর দু’জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। নিয়মমাফিক চাকরি ফেরানোর আর্জি নিয়ে তাঁরা আবেদন করেন জেলা পুলিসের কর্তাদের কাছে। প্রাথমিকভাবে তাঁদের ফের চাকরিতে ফেরানোর বিষয়ে ভাবা হলেও শীর্ষকর্তাদের একাংশ রাজি না হওয়ায় আগের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। এখন ওই দুই অভিযুক্ত স্যাটের দ্বারস্থ হয়েছেন।