


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সিএমসি ভেলোর, সিএমসি লুধিয়ানা। আবার মনিপাল গোষ্ঠীর কর্ণাটকের কস্তুরবা মেডিকেল কলেজ এবং ম্যাঙ্গালুরুর কস্তুরবা মেডিকেল কলেজ। দেশের বেশ কিছু বিখ্যাত মেডিকেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন জায়গায় একই গোষ্ঠীর এবং একই নামে একাধিক মেডিকেল কলেজ গড়েছে। এবার বাংলাতেও এমনই মডেলে একাধিক সরকারি মেডিকেল কলেজ গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, অদূর ভবিষ্যতে শহরে কলকাতা মেডিকেল কলেজ এবং পিজি’র মতো বড় মেডিকেল কলেজগুলিরর নামে দ্বিতীয় বা তৃতীয় মেডিকেল কলেজ গড়ে উঠলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। সিনিয়র স্বাস্থ্যকর্তারা ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে শহরের বড় মেডিকেল কলেজের কর্তাদের পরিকল্পনা করতে বলেছেন। ফলে যদি আগামী ৪-৫ বছরের মধ্যে কলকাতা মেডিকেল কলেজ ২ বা পিজি ২ অথবা আর জি কর ২ তৈরি শুরু হতে পারে।
এখন প্রশ্ন হল, এমন পরিকল্পনার কারণ কী? শহরের একটি বড় মেডিকেল কলেজের শীর্ষকর্তা জানান, প্রথমত, যতদিন যাচ্ছে রোগীর চাপ বাড়ছে। কলকাতায় ৫ সরকারি মেডিকেল কলেজ এবং আরও ৮-১০টি মাঝারি, বড় সরকারি হাসপাতাল চালিয়েও পরিস্থিতি সামলানো যাচ্ছে না। রোজ কলকাতার বড় মেডিকেল কলেজগুলিতে ৫-৭ হাজার থেকে ১৩-১৫ হাজার আউটডোর টিকিট হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ গ্রামে যেতে নারাজ। তাঁদের বাড়ি, চাকরি, প্র্যাকটিস তিনটিই কলকাতা কেন্দ্রিক। সেই স্থিতাবস্থা নষ্ট করতে চান না তাঁরা। ফলে শহরে আরও সরকারি মেডিকেল কলেজ হলে চিকিৎসক পেতে কোনও সমস্যা হবে না।
তৃতীয়ত, কলকাতা মেডিকেল কলেজ, আর জি কর, পিজি—এই তিনটিরই অ্যানেক্স হাসপাতাল রয়েছে। যেমন কলকাতা মেডিকেল কলেজে দু’টি সহায়ক বা অ্যানেক্স হাসপাতাল রয়েছে। বউবাজারের লেডি ডাফরিন ও বড়বাজারের মেয়ো হাসপাতাল। পিজি’র রয়েছে আরও ৬টি হাসপাতাল। বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস, শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতাল, পুলিশ হাসপাতাল, রামরিক হরলালকা হাসপাতাল, ইনস্টিটিউট অব সাইকিয়াট্রি এবং খিদিরপুর মেটারনিটি হোম। আর জি কর-এরও আছে দু’টি অ্যানেক্স। অরিনাশচন্দ্র মেটারনিটি হোম এবং ইন্দিরা মাতৃসদন।
দেশের মেডিকেল শিক্ষার শীর্ষ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের (এনএমসি) নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনও মেডিকেল কলেজের ১০ কিমির মধ্যে তার বিভিন্ন বিভাগগুলি থাকলেই হবে। কলকাতা মেডিকেলের এক পদস্থ সূত্র জানিয়েছে, লেডি ডাফরিনে গাইনি ও শিশু বিভাগ সংক্রান্ত বিভিন্ন চিকিৎসা এবং মেয়োতে প্রি এবং প্যারা ক্লিনিক্যাল বিভাগগুলি সম্প্রসারিত করে মেডিকেল কলেজ-২ চালু করা মোটেই অবাস্তব কিছু নয়। পিজি’র এক পদস্থ সূত্র অবশ্য জানিয়েছে, ঠান্ডা মাথায় ভেবেচিন্তে এগতে হবে।