


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রোগীর পরিবার বা বাড়ির লোকজনের অনুমতি ছাড়া রোগীকে কোনওভাবেই ভেন্টিলেটরে রাখা যাবে না। দেশজুড়ে ইচ্ছাখুশিমতো ভেন্টিলেটের ব্যবহার আটকাতে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রশ্ন উঠতে পারে, এতদিন পর হঠাৎ টনক নড়ল কেন?
সূত্রের খবর, আসলে সম্প্রতি দেশের প্রাইভেট হাসপাতালগুলিতে ভেন্টিলেটরের ব্যবহারে স্বচ্ছতা আনতে কড়া নজরদারি এবং নির্দিষ্ট নিয়ম কার্যকর করবার দাবি ওঠে লোকসভায়। তারপরই স্বাস্থ্যমন্ত্রকের অতিরিক্ত ডিজি হেলথ সার্ভিস ডাঃ সুজাতা চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি কমিটি গড়া হয়। দশজনের ওই কমিটি সম্প্রতি বৈঠকে বসে। তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশের ভিত্তিতে কেন্দ্র ভেন্টিলেটর ব্যবহারের নয়া গাইডলাইন (গাইডলাইন ফর ট্রান্সপারেন্সি ইন ভেন্টিলেটর ইউজেস বাই প্রাইভেট হসপিটালস) দিয়েছে।
চারপাতার ওই নির্দেশনামায় বলা হয়েছে, ভেন্টিলেটরে রাখার খরচের বিষয়টি রোগীর পরিবারকে পরিষ্কার করেই জানাতে হবে। কেন ভেন্টিলেটরে রাখা হচ্ছে, তার বৈজ্ঞানিক কারণ এবং যুক্তি দিতে হবে সোজাসাপটা। ভেন্টিলেটরের রাখার পর রোগীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি, অবনতি বা স্থিতাবস্থা যাই হোক না কেন, সেই স্টেটাস রোজ বাড়ির লোকজনকে জানাতে হবে। হাসপাতালে ভেন্টিলেটরসহ ক্রিটিক্যাল কেয়ারের খরচ কত হচ্ছে এবং শেষমেশ কত হতে পারে, জানাতে হবে তাও।
প্রতিটি তথ্যের ডকুমেন্টেশন জরুরি। মানে, রোগী যতদিন ভেন্টিলেশনে থাকবেন, তার প্রতিটি দিনের তথ্য নথিভুক্ত করতে হবে। পরিবার বা সংশ্লিষ্ট মহল চাইলেই তা দেওয়া চাই। পরিবার রোগীকে ভেন্টিলেশনে দিতে অরাজি হলে সেই ইচ্ছাকে মর্যাদা দিতে হবে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ভেন্টিলেটরের খরচ হাসপাতালের সমস্ত বিভাগেই যাতে অভিন্ন হয়, দেখতে হবে তাও। দেশের সমস্ত প্রাইভেট হাসপাতালের ওয়েবসাইট, বিলিং ডেস্ক, রিসেপশন প্রভৃতি সর্বত্র ভেন্টিলেটরের খরচ টাঙিয়ে রাখা জরুরি। কোনও রোগীকে দু’সপ্তাহের বেশি ভেন্টিলেশনে রাখলে, তার কারণ অনুসন্ধানে থাকতে হবে মাল্টি ডিসিপ্লিন কমিটি। পরিবারের অভিযোগের জবাব দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে প্রাইভেট হাসপাতালকে। ভেন্টিলেটরের রোগীদের ব্যাপারে ইন্টারনাল অডিট হবে হাসপাতালে।