


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: প্রতিবছর বর্ষা এলেই জমা জলের দুর্ভোগ চরমে ওঠে সাঁকরাইলে। বৃষ্টির জল জমে থাকার পাশাপাশি নিকাশি সমস্যায় দীর্ঘক্ষণ জলমগ্ন হয়ে থাকে একাধিক এলাকা। সেই সমস্যা মেটাতে এবার বড়জোলা খাল পরিষ্কার করতে একজোট হল চার পঞ্চায়েত। সাঁকরাইলের ২০০ ফুট মাঠ থেকে চতুর্ভুজকাটি, হামারি পোল হয়ে ধুলাগড় ট্রাক টার্মিনাল পর্যন্ত খালের অংশটি পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে।
সাঁকরাইল ব্লকের কান্দুয়া, ধুলাগড় ও মাশিলা পঞ্চায়েত এলাকার প্রধান নিকাশি নালা হিসাবে বড়জোলা খালের গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে খাল সংস্কার না হওয়ায় প্রতি বর্ষাতেই সমস্যা বাড়ছিল। গত কয়েক বছরে মাশিলা, কান্দুয়া ও ধুলাগড় পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির জল অনেকক্ষণ ধরে জমে থাকছিল। জল দ্রুত না নামায় দুর্ভোগে পড়ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি সাঁকরাইল ব্লক প্রশাসনের দপ্তরে বিডিওর সঙ্গে বৈঠক করেন তিন পঞ্চায়েতের প্রধান। বৈঠকেই ঠিক হয়, প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে না থেকে পঞ্চায়েতগুলির নিজস্ব তহবিলের টাকা খরচ করে সংশ্লিষ্ট এলাকার বড়জোলা খালের অংশ পরিষ্কার করবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কয়েকদিন আগে শুরু হয়েছে কাজ। মেশিন নামিয়ে খালের জঞ্জাল ও আবর্জনা সরানো হচ্ছে।
মাশিলা পঞ্চায়েতের প্রধান গোরাই খান বলেন, বর্ষাকালে আলমপুর, নিউ কোরলা, মাশিলা পশ্চিমপাড়া ও মহিষগোট এলাকায় বৃষ্টির পর জল নামতে বহু সময় লাগছিল। এই সমস্যা নিয়ে আমরা বিডিওর সঙ্গে বৈঠক করেছি। পঞ্চায়েতের নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থ দিয়ে এই কাজ করা হবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে। আমার এলাকার অংশের কাজ করতে আনুমানিক ৮০ হাজার টাকা খরচ হবে।
ব্লক প্রশাসনের এক কর্তা জানান, সাঁকরাইলের তিন পঞ্চায়েতের পাশাপাশি ডোমজুড় ব্লকের কোলড়া-২ পঞ্চায়েতকেও তাদের এলাকার বড়জোলা খালের অংশ পরিষ্কারে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। খালের কাজ সম্পূর্ণ হলে বর্ষায় জমে থাকা জল দ্রুত নামবে বলেই আশা প্রশাসনের। নিজস্ব চিত্র