


সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় ও ব্রতীন দাস, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি: ‘গণতন্ত্রে গণদেবতাই শেষ কথা। মানুষ আমাদেরই বিশ্বাস করে। ২১-এর থেকে অনেক আসন বাড়িয়ে ফিরব ২৬-এ।’ মঙ্গলবার উত্তরের মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রত্যয়ী বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কোচবিহারে রোড শো হোক বা ময়নাগুড়ির ভোটপাট্টিতে জনসভা— অভিষেকের কর্মসূচিতে সর্বত্রই জনজোয়ার। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দেখে বিজেপিকে অভিষেকের আক্রমণ, ‘যখন তখন ইডি, সিবিআই পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, শয়ে শয়ে বিজেপি নেতা, ১০ জন মুখ্যমন্ত্রী, ২০ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, নির্বাচন কমিশন, প্যারামিলিটারি ফোর্স, সেন্ট্রাল এজেন্সি। আর অন্যদিকে হাওয়াই চটি পরা একজন মহিলা, যাঁর সঙ্গে রয়েছে বাংলার জনগণ। বাংলা বিরোধী বিজেপিকে জবাব দেবেন তাঁরাই।’
তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের মন্তব্য, ‘নবজোয়ার কর্মসূচি করতে গিয়ে মানুষের শক্তি বুঝেছি। বাংলার মানুষ চাইলে ১০০ নরেন্দ্র মোদিও কিছু করতে পারবেন না। তাই বলছি, জনগণের ক্ষমতা বাংলায় আবার মমতাকেই চায়।’ অভিষেকের স্লোগানে গলা মেলায় ময়নাগুড়ির সভার উপচে পড়া ভিড়। কোচবিহারে রোড শোতে জনস্রোতে ভেসে অভিষেকের চ্যালেঞ্জ, ‘২১-এ তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির ভোটের ব্যবধান ছিল ৬০ লক্ষ। এসআইআরে ২৭ লক্ষ নাম অ্যাডজুডিকেশনে কেটে গিয়েছে। তাও বুক ঠুকে বলে যাচ্ছি, এবার ব্যবধান বাড়বে।’ জনগণের উদ্দেশে তাঁর আবেদন, ‘বাংলাকে যাঁরা অপমান করেছে, বঞ্চিত করেছে, যখন তখন বাংলার মানুষের হকের টাকা আটকে দিয়েছে, এবারের ভোটে তাদের উচিত জবাব দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, বিজেপি মানে ডিটেনশন। আর তৃণমূল মানে নো টেনশন।’
মোদি জমানায় মানুষের দুর্ভোগের কথা মনে করিয়ে দিয়ে অভিষেক বলেন, ‘মোদি মানুষকে লাইনে দাঁড় করাতে ভালোবাসেন। ২৩ এপ্রিল লাইনে দাঁড়িয়েই বিজেপিকে জবাব দিতে হবে। যে যেমন ভাষা বোঝে, তাকে সেই ভাষাতেই জবাব দেওয়া দরকার।’ অভিষেকের হুঁশিয়ারি, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো আমি এত উদার নই। বিজেপির সঙ্গে উদারতা দেখিয়ে লাভ নেই। বাংলাকে যাঁরা অপমান করেছেন, তাঁদের জন্য ৪ মে রবীন্দ্রসংগীত নয়, ডিজে বাজবে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ভোটপাট্টির মঞ্চ থেকে তৃণমূল সেনাপতির খোলা চ্যালেঞ্জ, ‘তিনি নাকি বলেছেন, বাংলায় ১৫ দিন থাকবেন। আমি বলছি, ৪ মে বাংলায় থাকুন। দেখব, কত বড়ো বুকের পাটা।’
কোচবিহার এ বি এন শীল কলেজের সামনে থেকে অভিষেকের রোড শো শুরু হয় এদিন। মদনমোহন মন্দিরের সামনে এসে গাড়ি থেকে নেমে আশীর্বাদ নেন। ময়নাগুড়িতে মহিলারা শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনিতে স্বাগত জানান অভিষেককে। আপ্লুত অভিষেক বলেন, ‘আপনাদের এই ভালোবাসা উন্নয়নের মাধ্যমে সুদে-আসলে শোধ করব, কথা দিচ্ছি।’ মহাত্মা গান্ধী সম্পর্কে ধূপগুড়ির বিজেপি প্রার্থীর করা কুমন্তব্যের প্রতিবাদে সরব হন অভিষেক। বলেন, ‘গান্ধীজিকে দেশের শত্রু বলা হচ্ছে। ক্ষুদিরাম বসুকে নিয়ে টিপ্পনি কাটা হচ্ছে। এটাই বিজেপির আসল চরিত্র। আমরা ধূপগুড়ি ডাকবাংলো এলাকায় গান্ধীজির মূর্তি বসাব।’